একযুগ পর রেলভ্রমণ

অবশেষে একযুগ বা তারও বেশী সময় পর আবার রেলভ্রমণ করলাম। আগেই কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম। সেসব তথ্য পাবেন আমার এই পোষ্টে। গত ১৩ই আগষ্ট (২০২৫) সকালে ঘুম থেকে উঠে যাত্রা শুরু করলাম বিমানবন্দর ষ্টেশনের উদ্দেশে। ঘড়িতে তখনও ৭টা বাজে নাই। মহুয়া কমিউটার ট্রেন বিমানবন্দর ষ্টেশনে আসার কথা সকাল ৮:৪৫ এর দিকে। 

আমি ষ্টেশনে পৌছে ভাবলাম এখানে অপেক্ষা না করে বরং কমলাপুর ষ্টেশনে চলে যাই। সেখান থেকে টিকেট করলে সিট নিশ্চিত। যে কোন আন্তনগর ট্রেনে করে কমলাপুর যাওয়া যায়, ভাড়া ৪৫ টাকা। আমি টিকেট কেটে অপেক্ষায় থাকলাম। অবশেষে একটি আন্তনগর ট্রেন এলো। তাড়াহুড়োয় খেয়াল করি নাই কোন ট্রেন। দেখলাম প্রচুর লোক এসময় কমলাপুর যায়। হয়তো অফিসযাত্রী। অনেকের জন্য হয়তো মেট্রোরেল এর চাইতে এই রুটটি সাশ্রয়ী, সময় প্রায় একই রকম লাগে। 

মোটামুটি ৩৫ মিনিটের মাথায় কমলাপুর পৌছে গেলাম। ঘড়িতে সকাল ৮টা বেজে গেছে। প্রায় দৌড়েই ষ্টেশনের বাইরে এসে মহুয়া কমিউটার ট্রেনের লাইনে দাড়ালাম। টিকেটও কেটে ফেললাম শ্রীপুর পর্যন্ত। ভাড়া নিলো ৪০ টাকা। 

এরপর শুরু হলো অপেক্ষার পালা। ডিসপ্লে বোর্ডে মহুয়া কমিউটার এর নাম আছে, যাত্রা সময়ও দেয়া আছে কিন্তু কোন প্ল্যাটফর্ম নাম্বার নাই। কানাঘুষায় জানতে পারলাম মহুয়া কমিউটার গত কয়েকদিন ধরে লেটে চলছে। অপেক্ষা করতে করতে পা ব্যথা হয়ে গেলো কিন্তু ট্রেনের কোন খবর নাই। এরমধ্যে দুটো ট্রেন গন্তব্যে রওনা হয়ে গেলো।

প্রায় ৯:৩০ এর দিকে জানা গেলো মহুয়া কমিউটার ২ নাম্বার প্ল্যাটফর্মে দেয়া হয়েছে। দেখলাম কোচগুলিকে ঠেলে জায়গামতো নিয়ে আসা হলো। আবার কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ইঞ্জিন যুক্ত হলো। অবশেষে সকাল ১০টায় যাত্রা শুরু করলো ট্রেন মোটামুটি পৌনে ২ ঘন্টা লেটে।

শুরুতে দরজায় দাড়িয়ে ভিডিও করছিলাম। টিকেট চেকার টিকেট চেক করে বললো বিমানবন্দরের পর যেন সিটে বসে যাই। কারণ এরপর থেকে যে পরিমাণ ভীড় হবে দরজায় দাঁড়াতে পারবো না। হলোও তাই। আমি অবশ্য বিমানবন্দর ষ্টেশনে এসে সিটে বসে পড়েছিলাম। 

অতঃপর প্রায় ১২টার দিকে ট্রেন শ্রীপুর ষ্টেশনে এসে থামলো এবং যাত্রী নামিয়ে আবার রওনা দিলো মোহনগঞ্জের দিকে।। বিলম্বের বিষয়টি ছাড়া পুরো ভ্রমণটি ভালই ছিলো। অদূর ভবিষ্যতে আরো কিছু রেলভ্রমণ করার ইচ্ছা আছে। ততোদিন পর্যন্ত ভাল থাকুন।

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।