চিকনগুনিয়া

চিকনগুনিয়া ঠিক কতোটা খতরনাক রোগ, সেটা যার বা যাদের হয় নাই, তারা কোনদিনই সেটা বুঝতে পারবে না। প্রথমে হলো বোনের, তারপর দুলাভাই এর। জ্বর ছেড়ে গেলেও দূর্বলতা এবং শরীরের ব্যথা এখনও যায় নাই। তবে তাদের জ্বর খূব একটা ছিলো না।
 
গতকাল আমি একযুগ বা তার বেশী সময় পরে ট্রেন ভ্রমণ করলাম। প্রথমে গেলাম বিমানবন্দর ষ্টেশন থেকে কমলাপুর ষ্টেশনে। আবার কমলাপুর ষ্টেশন থেকে গেলাম শ্রীপুর। বিমানবন্দর ষ্টেশন থেকে কমলাপুর এবং কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দুইবারই গেটে দাড়িয়ে ভিডিও করেছি। আসলে নিজের এবিলিটি টেষ্ট করলাম। বাকি পথ সিটে বসেই গিয়েছি। শ্রীপুর গিয়ে আবার প্রচুর হাটাহাটি করেছি।
 
বিকালে বাসায় পিরে একটা ঘুম। সন্ধ্যার পর দেখি শরীর-হাত-পা ব্যথা করে। আমি মনে করেছি অনেকদিন পর লম্বা একটা সময় দাড়িয়ে ভ্রমন করয় শরীর ব্যথা করছে। তারপর রাতে খেয়ে ঘুম, শরীর-হাত-পা ব্যথা করছিলো যদিও। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তীব্র ব্যথা আর জ্বর নিয়ে ঘুম ভাঙ্গলো। উঠতে গিয়ে দেখি পারি না। মানে পায়ে কোন জোর নাই। তারপরও জোর করে উঠে দাড়িয়ে ফ্রিজ থেকে কোল্ড জেল আর টেবিল থেকে থার্মোমিটার নিলাম। জ্বর মেপে দেখি ১০৩.৭ ডিগ্রি। এরপর কোল্ড জেল দিয়ে জ্বর কমানোর চেষ্টা করলাম। কিছুটা কমে, আবার বেড়ে যায়। সকালে উঠে বোন কিছুক্ষণ পানি দিলে মাথায় এরপর আমি দূধ খেয়ে নাপা খেলাম একটা। আবার জ্বর কিছুটা কমলো, ব্যথাও কমলো মনে হলো।
 
এক পায়ের পাতায় ব্যথা, এরপর দুই হাটুতে, ডান হাতে কাঁধ থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত সবই ব্যথা।। খাওয়ার কোন টেষ্ট পাচ্ছি না পানি, দূধ, স্যুপ সবই একই রকম লাগে। বিকালে দূধ খেয়ে আবার এজটা নাপা খেলাম। রাতে আরেকটা খাব।। আপাতত ডাক্তারের পরামর্শ এটাই। সাথে প্রচুর লিকুইড খেতে বলছে।
 
আপাতত এভাবেই চলছে। ভোরের দিকে পাজরের হাড়ে ব্যথা করছিলো। মনে হচ্ছিলো কেউ হাড়ে চিমটি দিচ্ছে। এখন অবশ্য এই ব্যথা নাই। উঠে দাড়াতে গেলে প্রচন্ড কষ্ট হয়, তবে একবদ দাড়িয়ে গেলে হেটে বাথরুম পর্যন্ত যেতে পারি।
 
এই হলো অবস্থা।
 
 
 
 

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।