ডাকটিকেট সংগ্রহ

ডাকটিকেট সংগ্রহ একটি জনপ্রিয় ও চমৎকার শখ, যা বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের কাছে প্রিয়। ছোট্ট এই কাগজের টুকরোগুলো শুধু ডাক যোগাযোগের ইতিহাসই বহন করে না, বরং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক দৃশ্য, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলির দলিল হিসেবেও কাজ করে।

ডাকটিকেটের ইতিহাস উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়। প্রথম ডাকটিকেট ‘পেনি ব্ল্যাক’ ১৮৪০ সালে ইংল্যান্ডে প্রচলিত হয়। সেই থেকে ডাকটিকেট শুধু ডাক ব্যবস্থার অংশই নয়, সংগ্রাহকদের কাছে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ডাকটিকেটে থাকে একটি বিশেষ নকশা, রঙ এবং বার্তা, যা সংগ্রাহকদের আকর্ষণ করে।

Image Created by ChatGPT

ডাকটিকেট সংগ্রহের মাধ্যমে একজন মানুষ পৃথিবীর নানা প্রান্ত সম্পর্কে জানতে পারে। বিভিন্ন দেশের ডাকটিকেট দেখে তাদের জাতীয় প্রতীক, ঐতিহাসিক ঘটনা বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে পরিচিত হওয়া যায়। অনেক ডাকটিকেট বিরল হওয়ায় এর আর্থিক মূল্যও অনেক বেশি হতে পারে। ফলে এটি শুধু শখ নয়, বিনিয়োগেরও একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

এই শখটি ধৈর্য ও যত্নের দাবি রাখে। ডাকটিকেট সংরক্ষণে বিশেষ অ্যালবাম ব্যবহার করা হয়, যাতে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বয়স্ক সংগ্রাহকরা প্রায়ই তাদের সংগ্রহ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করেন, যা এক ধরনের ঐতিহ্যে রূপ নেয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ডাক ব্যবস্থার ব্যবহার কমে গেলেও ডাকটিকেট সংগ্রহের আকর্ষণ কমেনি। বরং অনেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ ও বিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

ডাকটিকেট সংগ্রহ শুধু বিনোদন নয়, এটি জ্ঞান বৃদ্ধি, ইতিহাস চর্চা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক অনন্য মাধ্যম। তাই অবসর সময়কে সৃজনশীলভাবে কাজে লাগাতে ডাকটিকেট সংগ্রহ হতে পারে এক অসাধারণ শখ।

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।