ফটোগ্রাফি কম্পোজিশন

ফটোগ্রাফি একটি শিল্প। আর এই শিল্পকে পরিপূর্ণ করে তোলে কম্পোজিশন বা ছবির বিন্যাস। একটি ভালো ছবির মূল ভিত্তি হলো সঠিক কম্পোজিশন। শুধু ক্যামেরা বা লেন্স ভালো হলেই হয় না; ছবির ভেতরে কোন বিষয়কে কিভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে সেটিই আসল বিষয়।

কম্পোজিশনের সবচেয়ে প্রচলিত নিয়ম হলো Rule of Thirds। ফ্রেমকে কল্পনায় নয়টি সমান ভাগে ভাগ করে বিষয়বস্তুকে এক পাশে বা কোনো ক্রসিং পয়েন্টে রাখা হয়। এতে ছবির ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়া Leading Lines ব্যবহার করে চোখকে ছবির মূল বিষয়ের দিকে টেনে নেওয়া যায়। যেমন রাস্তা, নদী বা রেললাইন দর্শকের দৃষ্টি কেন্দ্রবিন্দুর দিকে নিয়ে যায়।

Symmetry এবং Patterns ছবিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। সমান্তরাল আকার, জানালা বা প্রতিফলন ছবিতে সৌন্দর্য বাড়ায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো Framing। গাছের ডাল, জানালার ফ্রেম বা দরজার আকার ব্যবহার করে মূল বিষয়বস্তুকে ঘিরে রাখা হলে ছবিতে গভীরতা আসে।

আলো এবং ছায়াও কম্পোজিশনের অংশ। কখনো প্রাকৃতিক আলো, কখনো কৃত্রিম আলো ছবির মুড পরিবর্তন করে। একই দৃশ্য ভিন্ন কম্পোজিশনে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

সুতরাং, ফটোগ্রাফি কম্পোজিশন শুধু নিয়ম নয়, বরং একটি সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি। নিয়ম জানা জরুরি, তবে প্রয়োগের সময় সৃজনশীলতা ও নিজের দৃষ্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন ফটোগ্রাফার যত বেশি অনুশীলন করবে, তার ছবির কম্পোজিশন তত বেশি উন্নত হবে।

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।