বই পড়া

বই মানুষের জ্ঞানের ভান্ডার এবং মনের খোরাক। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও কল্পনার জগৎ সংরক্ষণ করেছে বইয়ের পাতায়। বই পড়া শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়, এটি আমাদের চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তিত্ব গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।

বই পড়ার মাধ্যমে আমরা অজানা জগৎকে জানতে পারি। ইতিহাসের পাতা উল্টে আমরা অতীতের ঘটনাবলি জানতে পারি, বিজ্ঞান বই পড়ে নতুন নতুন আবিষ্কারের খবর পাই, সাহিত্য পড়ে মানুষের অনুভূতি ও জীবনের নানা রঙ চিনতে পারি। গল্পের বই আমাদের কল্পনাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে, কবিতার বই মনের কোমলতা ও সৌন্দর্যবোধ বাড়ায়।

নিয়মিত বই পড়া ভাষার জ্ঞান বাড়ায়, শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ করে এবং লেখার ক্ষমতা উন্নত করে। পাশাপাশি এটি মনোযোগ বাড়ায় ও স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করে। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ও স্মার্টফোনের কারণে অনেকেই বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে, যা দুঃখজনক। অথচ বই পড়া এক ধরণের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়, যা অন্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া কঠিন।

বই কেবল জ্ঞানের দরজা খুলে দেয় না, এটি মানুষকে নৈতিক শিক্ষা ও জীবনবোধও দেয়। ভালো বই আমাদের সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে, জীবনের সংকটে সাহস জোগায়। বই পড়া মানুষের একান্ত সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে, কারণ এটি কখনো প্রতারণা করে না।

Image created by ChatGPT

তাই আমাদের সবার উচিত নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় বইয়ের সঙ্গে কাটালে মন, মস্তিষ্ক ও আত্মা সমৃদ্ধ হয়। মনে রাখতে হবে, “বইয়ের বন্ধু জীবনের বন্ধু”—একে জীবনের অংশ করে নিলে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের পথচলা।

Image Iredit : ChatGPT

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।