বেশ কিছুদিন ধরে ভাবছি, আবার ট্রেন ভ্রমণ শুরু করবো। শেষবার কবে ট্রেনে চড়েছিলাম, তা ঠিক মনে নেই। তবে মনে পড়ে, তানভীর আর সামীর সঙ্গে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত শেষবার গিয়েছিলাম ট্রেনে চড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউবে সাদাত ট্রিপসহ অনেকের ট্রেন ভ্রমণের ভিডিও দেখে আমারও তীব্র ইচ্ছে হচ্ছে রেলপথে বেরিয়ে পড়ার। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও বৃষ্টি আর পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতা হয়ে দাঁড়িয়েছে সবচেয়ে বড় বাধা।
ইউটিউব আর ইন্টারনেট ঘেটে বেশ কিছু ট্রেন সার্ভিস বাছাই করেছি যেগুলোতে ভ্রমণ করা যেতে পারে। বাছাই করার প্রথম মানদন্ড ছিলো ট্রেনগুলো বিমানবন্দর ষ্টেশন দিয়ে যেতে হবে। কারণ আমার বাসা থেকে কাছে। দ্বিতীয় মানদন্ড ছিলো স্বল্প দূরত্ব, যাতে সহজেই দিনে গিয়ে দিনে ফেরত আসা যায়। এই দুই মানদন্ডে আপাতত ৩টি ট্রেন সার্ভিস বাছাই করেছি, ৩টিই কমিউটার ট্রেন।
০১. মহুয়া কমিউটার : ঢাকা – মোহনগঞ্জ
ট্রেনটি ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে নিচের ষ্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে মোহনগঞ্জ ষ্টেশনে পৌছায়।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন, বনানী রেলওয়ে স্টেশন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন, ধীরাশ্রম রেলওয়ে স্টেশন, জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন, ভাওয়াল গাজীপুর রেলওয়ে স্টেশন, রাজেন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশন, ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশন, শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন, সাত খামাইর রেলওয়ে স্টেশন, কাওরাইদ রেলওয়ে স্টেশন, মশাখালি রেলওয়ে স্টেশন, গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন, ধলা রেলওয়ে স্টেশন, আউলিয়ানগর রেলওয়ে স্টেশন, আহমদবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন, ফাতেমানগর রেলওয়ে স্টেশন, সুতিয়াখালী রেলওয়ে স্টেশন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন, ময়মনসিংহ জংশন রেলওয়ে স্টেশন, শম্ভুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন, বিষকা রেলওয়ে স্টেশন, গৌরীপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশন, শ্যামগঞ্জ জংশন রেলওয়ে স্টেশন, হিরনপুর রেলওয়ে স্টেশন, চল্লিশানগর রেলওয়ে স্টেশন, নেত্রকোণা রেলওয়ে স্টেশন, নেত্রকোণা কোর্ট রেলওয়ে স্টেশন, বাংলা রেলওয়ে স্টেশন, ঠাকুরকোনা রেলওয়ে স্টেশন, বারহাট্টা রেলওয়ে স্টেশন, অতিতপুর রেলওয়ে স্টেশন, মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন।
ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশনে এটি আসে সকাল ৮:৪৫ মিনিটের দিকে। আমি এই ট্রেনে সহজেই শ্রীপুর পর্যন্ত যেতে পারি এবং ঢাকামুখি কোন ট্রেনে আবার ফিরতে পারি। ট্রেন না থাকলে সহজেই বাসে করে ফেরা সম্ভব।
০২. কর্ণফুলী কমিউটার : ঢাকা -চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামগামী এই লোকাল ট্রেনটি নিচের ষ্টেশনগুলিতে যাত্রাবিরতী করে
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন, বনানী রেলওয়ে স্টেশন (বনানী রেলস্টেশনে পূর্বে বিরতি দিলেও বর্তমানে তা বন্ধ আছে), ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন, টঙ্গী জংশন রেলওয়ে স্টেশন, পুবাইল রেলওয়ে স্টেশন, নলছাটা রেলওয়ে স্টেশন, আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশন, ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ রেলওয়ে স্টেশন, ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশন, জিনারদী রেলওয়ে স্টেশন, নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন, আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন, খানাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন, হাটুভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন, মেথীকান্দা রেলওয়ে স্টেশন, শ্রীনিধি রেলওয়ে স্টেশন, দৌলতকান্দি রেলওয়ে স্টেশন, ভৈরব বাজার জংশন রেলওয়ে স্টেশন, আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন, তালশহর রেলওয়ে স্টেশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পাঘাচং রেলওয়ে স্টেশন, ভাতশালা রেলওয়ে স্টেশন, আখাউড়া জংশন রেলওয়ে স্টেশন, গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন, ইমামবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন, কসবা রেলওয়ে স্টেশন, মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন, সালদানদী রেলওয়ে স্টেশন, শশীদল রেলওয়ে স্টেশন, রাজাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সদর রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন, ময়নামতি রেলওয়ে স্টেশন, লালমাই রেলওয়ে স্টেশন, আলীশ্বর রেলওয়ে স্টেশন, লাকসাম জংশন রেলওয়ে স্টেশন, নাওটি রেলওয়ে স্টেশন, নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশন, হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশন, গুণবতী রেলওয়ে স্টেশন, শর্শদি রেলওয়ে স্টেশন, ফেনী জংশন রেলওয়ে স্টেশন, কালিদহ রেলওয়ে স্টেশন, ফাজিলপুর রেলওয়ে স্টেশন, মুহুরীগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন, চিনকী আস্তানা রেলওয়ে স্টেশন, মাস্তাননগর রেলওয়ে স্টেশন, মীরসরাই রেলওয়ে স্টেশন, বারতাকিয়া রেলওয়ে স্টেশন, নিজামপুর কলেজ রেলওয়ে স্টেশন, বারৈয়াঢালা রেলওয়ে স্টেশন, সীতাকুন্ড রেলওয়ে স্টেশন, বাড়বকুন্ড রেলওয়ে স্টেশন, কুমিরা রেলওয়ে স্টেশন, ভাটিয়ারী রেলওয়ে স্টেশন, ফৌজদারহাট রেলওয়ে স্টেশন, কৈবল্যধাম রেলওয়ে স্টেশন, পাহাড়তলী রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম জংশন রেলওয়ে স্টেশন, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন।
এই ট্রেনে সহজেই ঘোড়াশাল অথবা নরসিংদী পর্যন্ত যাওয়া যায়। সকাল ৯:২০ মিনিটে এটি ঢাকা বিমানবন্দর ষ্টেশনে আসে। তবে ফেরার ট্রেন বা বাস সম্পর্কে আরেকটু জানতে হবে।
০৩. তিতাস কমিউটার : ঢাকা – ব্রাহ্মণবাড়িয়া
এই ট্রেনটি ঢাকা কমলাপুর লেলওয়ে ষ্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে আখাউড়া পর্যন্ত যায়। নিচের ষ্টেশনগুলিতে যাত্রাবিরতি করে
কমলাপুর, তেজগাঁও, ঢাকা বিমানবন্দর, টঙ্গী জংশন, পুবাইল, আড়িখোলা, ঘোড়াশাল ফ্ল্যাগ, নরসিংদী, আমিরগঞ্জ, খানাবাড়ী, মেথীকান্দা, শ্রীনিধি, দৌলতকান্দি, ভৈরব বাজার জংশন, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পাঘাচং, আখাউড়া।
এই ট্রেনে ঘোড়াশাল, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এমনকি আখাউড়া পর্যন্ত যাওয়া যেতে পারে,তবে সময়সূচী এবং ফিরতি ট্রেন বা বাস সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করতে হবে। এটি সকাল ১০:১৩ মিনিটে ঢাকা বিমানবন্দর ষ্টেশনে আসে।
আপাতত এই হলো তথ্য। আরো কিছু তথ্য জোগাড় করে বের হয়ে পড়তে পারি। তবে শ্রীপুর, ভাওয়াল কিংবা জয়দেবপুর যে কোন দিন যাওয়া যেতে পারে।
Photo Credit : Bing

ফেসবুক মন্তব্য