মতিঝিলে দুপুরের খাবার

কাজে-অকাজে মতিঝিলে যাওয়া হয় মাঝে মধ্যেই। আর মতিঝিলে গেলে অর্ধেক বেলা সেখানেই কেটে যায়। কাজ শেষে অথবা কাজের মধ্যে আবার দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় হয়ে যায়। আমি সাধারণত হালকা কিছুই খেতে পছন্দ করি, মাঝে মধ্যে ভারী কিছু। প্রথম পছন্দ দেশবন্ধু সুইটমিটের পরোটা-ভাজি। আর ভারী কিছু খেলে ঘরোয়ার বিফ খিচুড়ি।

ইদানিং ফেসবুক / ইউটিউবে বিভিন্ন ফুড ব্লগারদের ভিডিও দেখে ষ্ট্রিটফুড চেখে দেখার শখ হয়েছে। এবার তাই মতিঝিলে গিয়ে ঠিক করলাম আইএফআইসি ব্যাংকের কাছে যে ফ্রাইড রাইস পাওয়া যায় সেটি টেষ্ট করবো।

কাজ শেষে হাটা দিলাম দৈনিক বাংলা মোরের দিকে। আমি একটু কনফিউজড ছিলাম ফুডকার্ট কোন সাইডে হবে। যাই হোক, জায়গা মতো পৌছে এদিক ওদিক তাকিয়ে একটা ফুডকার্ট দেখতে পেলাম মেইন রোডের পাশেই। কাছে যেতেই চোখে পড়লো ফুডকার্ট, নাম লেখা ইজি লাইফ ফুড। নিচে খাবারের মূল্য তালিকা।

আমি সামনে গিয়ে ডিম, ফ্রাইড রাইস চাইলাম, বললো শেষ হয়ে গেছে। শেষে চিকেন ফ্রাই দিয়ে ফ্রাইড রাইস আর ভেজিটেবল অর্ডার করলাম। প্রায় সাথে সাথেই প্লেটে করে খাবার দিলো। এমি একটু পিছনে গিয়ে খেতে শুরু করলাম। কিন্তু উপর থেকে দেখি পানি পড়ে। মালিক আমাকে সামনে এসে বসতে বললেন, কারণ চকি নাকি ভাঙ্গা। আমি সামনে এসে টুলে বসলাম। পানির কথা বলতেই জানালেন উপরের এসির পানি।

যাই হোক। খাবার মোটামুটি। তবে চিকেন ফ্রাই খেয়ে হতাশ। ফুড ব্লগারদের সামনে মালিক যেভাবে বলছিলেন তিনি কেএফসি’র রেসেপি ফলো করে এই চিকেন ফ্রাই তৈরী করেন, তার ছিটেফোটাও পেলাম না। পাড়ার সাধারণ দোকানের চিকেন ফ্রাই এর মতোই। আলাদা কোন টেষ্ট নাই।

খাওয়া শেষে বিল দিলাম ১২০ টাকা। যারা এইরকম ফুডকার্ট থেকে খেতে চান, তারা মাথায় রাখবেন জায়গাগুলো খূব একটা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না, হাইজিন সেভাবে মেইনটেইন করা হয় না। এখানে কেবল একটাই লক্ষ্য কম টাকায় ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণ। আর কিছু না।

 

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।