আব্বার মৃত্যুবার্ষিকী

আজ আব্বার ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২২ সালের ১৩ই ডিসেম্বরের এই দিনে আব্বা অসুস্থ্য অবস্থায় মারা যান। আম্মার মৃত্যুর পরই আব্বা বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেয়ার পর জানতে পারি তার ইউরিন ইনফেকশন হয়েছে। ডাঃ সাজ্জাদ হোসেন এইচডিইউ এর সামনে দাড়িয়ে বলেছিলেন এক ওনার বয়েস খূব বেশী, দ্বিতীয় ইনফেকশনের মাত্রাও বেশী আর তৃতীয় মাত্র কয়েকটি এন্টিবায়োটিক তার শরীরে কাজ করছে। বাকি সব উপরওয়ালার হাতে, আমরা কেবল চেষ্টা করছি। 

সেবার আব্বাকে নিয়ে বাসায় ফিরতে পারলেও তার মুখে খাওয়ার আর শক্তি ছিলো না। নাকে রাইস টিউব দিয়ে তরল খাবার দিতে হতো। হাটাচলা তো আরো আগে থেকেই বন্ধ। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এভাবেই চলেছে। কথাও বলতো না, কথা বুঝতেও মনে হয় সমস্যা হতো। 

তারপর আর কি। এভাবেই চলছিলো। প্রায় দেড় বছর এভাবেই কষ্টকর জীবন পার করে আব্বা পারি জমালেন পরপারে। 

” রাব্বির হামহুমা, কামা রাব্বায়ানি সাগিরা “
অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করো; যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।’

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।