ডিএক্সইং

DXing হল রেডিও শোনার জগতে একটি জনপ্রিয় এবং রোমাঞ্চকর শখ, যেখানে দূরবর্তী দেশ বা অঞ্চলের রেডিও সংকেত খুঁজে বের করে শোনা হয়। DX শব্দটি এসেছে “distance” শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে, যার অর্থ দূরবর্তী যোগাযোগ। রেডিও প্রেমীদের কাছে DXing মানে অজানা সিগন্যাল খোঁজার এক রোমাঞ্চকর অভিযান।

DXing মূলত শর্টওয়েভ, AM, FM এবং কখনো কখনো ডিজিটাল রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে করা হয়। শর্টওয়েভ রেডিওতে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের সম্প্রচার শোনা সম্ভব হয় বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ার প্রতিফলনের কারণে। এতে শ্রোতারা বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি এবং দেশের সংবাদ সরাসরি শুনতে পারেন।

DXing শুধুমাত্র শখ নয়, এটি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি মাধ্যম। একজন DXer প্রায়ই লগবুক বা কম্পিউটার সফটওয়্যারে শোনা স্টেশনগুলোর তথ্য নথিভুক্ত করে রাখেন—যেমন ফ্রিকোয়েন্সি, সময়, সিগন্যালের মান এবং সম্প্রচারের ভাষা। অনেক সময় স্টেশনগুলো শ্রোতাদের “QSL কার্ড” পাঠায়, যা DXers-এর কাছে বিশেষ স্মারক হিসেবে থাকে।

এই শখে সফল হতে হলে প্রয়োজন ভালো মানের রেডিও রিসিভার, উপযুক্ত অ্যান্টেনা এবং ধৈর্য। প্রাকৃতিক অবস্থা যেমন আবহাওয়া, সূর্যের কার্যকলাপ এবং রাত-দিনের পরিবর্তন সিগন্যাল পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

বর্তমান ইন্টারনেট যুগেও DXing-এর আকর্ষণ কমেনি, বরং অনলাইন SDR (Software Defined Radio) প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা বিশ্বের রিসিভার ব্যবহার করে DXing আরও সহজ হয়েছে।

DXing একদিকে যেমন বিনোদন, তেমনি এটি বিশ্বজোড়া সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার, প্রযুক্তি বোঝার এবং নতুন কিছু শেখার অসাধারণ সুযোগ এনে দেয়। এটি রেডিওপ্রেমীদের কাছে এক অবিরাম আবিষ্কারের যাত্রা।

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।