ওয়েভ লেন্থ

একটু থমকে দাড়ালো রানা, এ কাকে দেখছে সে। সেই তো !!! ভুল হবার কোন সম্ভাবনা নেই। সেই ক্লাস এইট থেকে চেনা জানা। ভুল হতেই পারে না। দেখতে আগের মতোই আছে তনু, একটু মুটিয়েছে অবশ্য। বয়সও তো কম হলো না। সে সময় বয়স ছিল খূব বেশী হলে ১৪ বছর আর এখন …

পায়ে পায়ে কখন যে তনুর সামনে এসে দাড়িয়েছে রানা, টেরও পায়নি। নিবিষ্ট মনে পত্রিকা পড়ছিলো তনু। ট্রেন আসতে তখনও অনেকটা দেরী।

আস্তে করে জিজ্ঞাসা করেই ফেললো রানা – “কেমন আছো, তনু ?”
একটু চমকে উঠে সামনে দাঢ়ানো রানা’কে দেখে বেশ অবাকই হয়ে গেল তনু। রানা’ই তো। তেমনই আছে, আগের মতোই। একটু শুকিয়েছে, মাথার চুল কমে গেছে অনেক। ২০ বছর তো হবেই … এতো গুলো বছর পার হয়ে গেল। আর কখনও দেখা হবে আশাও করেনি তনু। অথচ দেখা হয়ে গেল …

অস্ফুটে বললো – “ভাল। তুমি ?”
“চলছে একরকম।”

আবারও নীরবতা। ভীড় করে আসছে সব স্মৃতিরা। সেই কিশোর বয়সের দিনগুলি। ভাল লাগার সময় গুলো। ভার্সিটিতে সেই আনন্দ। এরপর …

এরপর আর ভাবতে চায়না তনু। তার সব আনন্দ হারিয়ে গিয়েছিলো এক সময়। এখন তার স্বামী আছে, সংসার আছে। আছে চমৎকার দু’টো ছেলে-মেয়ে। তারপরও যেন কি নেই তার। এতো গুলো বছর …

“দেশে কবে আসলে ?” – জানতে চাইলো রানা।
“এই তো প্রায় আড়াই সপ্তাহ। আজ ফিরে যাচ্ছি ঢাকায়। কাল ফ্লাইট।”
“হুম।” – আবার দীর্ঘ নীরবতা।

“তোমার বউ কেমন হলো ? ছেলে-মেয়েরা ?” – তনু জানতে চায়।
এক ঝলক কি রাগ দেখলো রানা’র চোথে ! কই জানি অতলে হারিয়ে গেল মূহুর্তেই।
অস্ফুটে জবাব দিল – “আমার একলার জীবন, একলাই চলছি।”

তনু’র চোখে কি পানি ! আবার দীর্ঘ নীরবতা।

একসময় দূরে হুইসেল শোনা গেল ট্রেনের। ঢাকা’র ট্রেন। একসময় তনু উঠলো, ট্রেনে উঠতে হবে। ফিরে যেতে হবে আপন বলয়ে। জানালার পাশেই বসলো। রানা দাড়িয়ে প্ল্যাটফর্মে, ঠিক জানালার পাশেই।

একটু ইতস্তত করলো রানা। শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করেই ফেললো …
“তুমি কি তোমার স্বামী’কে ভালবাসতে পেরেছ ?”

একমূহুর্ত থমকাল তনু। ঠিক এই সময় এই প্রশ্নটার জন্য তৈরী ছিলো না সে। একটু ভাবলো …
“ঠিক জানি না, ভালবাসি কিনা।” – এতোগুলো বছর এক ছাদের নিচে কাটিয়ে দিলো, তারপরও জানে না তনু। তবে জানে বাচ্চার বাবা বাসায় আসতে দেরী করলে তার চিন্তা হয়, অসূখ করলে উৎকন্ঠা বাড়ে বৈকি। মন খারাপ দেখলে একটু পাশে বসে জানতে ইচ্ছা করে কেন মন খারাপ। তারপরও তনু জানে না সে তার স্বামীকে ভালবাসে কিনা।

ট্রেন টা চলতে শুরু করেছে। জানলার পাশে বসা তনুর মূখটা আস্তে আস্ত ছোট হয়ে আসছে। তনু আবারও হারিয়ে যাচ্ছে। রানা ঠায় দাড়িয়ে আছে প্ল্যাটফর্মে। রানা ঠিক বুঝতে পারছে না তার কি খূশী হওয়া উচিত না দূঃখিত। কত দিন মনে হয়েছে একবার যদি দেখা হতো তনুর সাথে, একবার। অথচ আজ …

দেখা না হওয়াটাই মনে হয় ভাল ছিলো। যে দূরে চলে গেছে, সে আসলে অনেকই দূরে …

===========================================================================
এটা ঠিক গল্প না আবার গল্প লেখার অপচেষ্টাও না। এক বন্ধুর খূব মন খারাপ। জীবনের শুরুতে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব না মেলায় এখনও কষ্ট পাচ্ছে মনে মনে। জানি না কি বলে ওর মনটা হালকা করবো। জীবনটা তো আর অংকের সহজ সমীকরণ না যে একসময় সব মিলে যাবে। পাওয়া না পাওয়া নিয়েই তো চলতে হয়, শুধূ জানি এটাই জীবন।
===========================================================================

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.