তার চুরি

দীর্ঘ ৮ দিন পর ল্যান্ড ফোন (বিটিসিএল) ঠিক হলো। সেই সাথে সচল হলো নেট লাইন। অচল হওয়ার কারণ – ভূগর্ভস্থ ক্যাবল চুরি। ২৭ তারিখ রাত্র তুমুল বৃষ্টির মধ্যে এই চৌর্যবৃত্তি সংঘটিত হয়েছিলো। ফলে উত্তরা ১২ এবং ১৪ নাম্বার সেক্টরের প্রায় ১২০০ ফোন বিকল হয়ে যায়। টেলিকম সেক্টরের সাথে যুক্ত এক ভদ্রলোকের সাথে আলাপে জানলাম কিছু বিচিত্র তথ্য।
 
কিভাবে চুরি হয় – সুয়ারেজ লাইনের মতো বিটিসিএল এর নেটওয়ার্ক পূরো শহর জুড়েই আছে মাটির নিচে। কাজের সূবিধার জন্য কিছু দূর পর পর আছে কংক্রিটের তৈরী বক্স। ক্যাবলে কোন সমস্যা হলে ম্যানহোল দিয়ে নিচে নেমে লাইনম্যান/টেকনিশিয়ান/ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করেন। ক্যাবল চোর ও এই পথেই নামে। প্রথমে কোন একটা ম্যানহোলে নেমে হাতে বহন যোগ্য বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে কোন একটা ক্যাবল কাটা হয়। এরপর হয়তো মাইল খানেক দূরে আরেক ম্যানহোল দিয়ে নেমে সেই একই ক্যাবলের আরেক মাথা কাটা হয়। এরপর ক্যাবলের কোন এক মাথা দড়ি দিয়ে বেধে ট্রাক/টো ট্রাক দিয়ে টেনে বের করে আনা হয় ক্যাবলটা। ট্রাকে করেই নিয়ে যাওয়া হয় কোন ফার্নেসে, কিছুক্ষণের মধ্যেই গলিয়ে এর করা হয় সলিড তামা। এই তামা কিনে বৈদ্যুতিক তার/সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
 
কারা জড়িত – এই কাজে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। কোন সাধারণ চোরের পক্ষে কোন ম্যানহোলে নামতে হবে আর কোন তার কাটতে হবে এটা জানা সম্ভব না। বিটিসিএল এর মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধূ কর্মকর্তা/কর্মচারী মূলত চোরদের গাইড করে এই ব্যাপারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধূ সদস্যরাও এদের সাথে আছে, কারণ তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগীতা ছাড়া খোলা রাস্তার উপর এই চৌর্যবৃত্তি সম্ভব না। চক্রের সাথে আরো আছে ফার্নেস মালিক এবং বৈদ্যুতিক তার/সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
 
ফেসবুক ষ্ট্যাটাস ৪ঠা আগষ্ট, ২০১৩
(এখন অবশ্য বিটিসিএল এর মাটির নিচের সব নেটওয়ার্ক অপটিক্যাল ফাইবার এর। চুরি করে লাভ হয় না)

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।