ক্যানন ক্যামেরা হ্যাক

আপনার একটা ক্যানন পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা আছে, কিন্তু সেটা দিয়ে ফটো তুলে আর মজা পাচ্ছেন না। একটা ডিএসএলআর ক্যামেরার অভাব বোধ করছেন ব্যাপক ভাবে। কিন্তু যা দাম সেগুলোর। নতুন যে আরেকটা উন্নত ধরণের ডিএসএলআর এর মতো ম্যানুয়াল মোড সহ পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরা কিনবেন সেটাতেও ঠিক মন সায় দিচ্ছে না। কিন্তু তাই বলে কি আপনার ক্রিয়েটিভিটি থেমে থাকবে ? কখনই নয়। আপনার ক্যানন ক্যামেরাটিকেই হয়তো সেই রকম ম্যানুয়াল মোড সহ আরো নানারকম ফিচার সমৃদ্ধ একটা ক্যামেরায় রুপান্তর করা সম্ভব। ভয় নেই এর জন্য আপনার ক্যামেরাটি বিযুক্ত করার কোন প্রয়োজন নেই। কেবল ক্যামেরার ফার্মওয়্যারটি একটু পরিবর্তন / পরিবর্ধন করতে হবে।

ক্যানন হ্যাকার’স ডেভেলপমেন্ট কিট (CHDK) হলো সেই যাদুর কাঠি যার ছোয়ায় আপনার সাধারণ ক্যানন ক্যামেরাটি হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ। একটা ছোট উদাহরণ দেই – প্রতিটা ডিজিটাল ক্যামেরাতেই ছবি উঠে RAW ফরম্যাটে, পয়েন্ট এন্ড শুট ক্যামেরাগুলি ক্যামেরার মধ্যেই এই ফরম্যাট পরিবর্তন করে JPEG এ সেভ করে। এখন আপনি যদি এই CHDK আপনার ক্যামেরায় ইন্সষ্টল করেন তবে আপনি ইচ্ছে করলে ডিএসএলআর ক্যামেরার মতো সব ছবিই RAW ফরম্যাটে সেভ করতে পারবেন।

কি কি পরিবর্তন …

ক. প্রফেশনাল কন্ট্রোল
১. RAW ফরম্যাটে ফাইল সেভ করা
২. ফুল ম্যানুয়াল এক্সপোজার
৩. ব্র্যাকেটিং
৪. লাইভ হিষ্টোগ্রাম
৫. জেব্রা মোড
৬. গ্রিড ইত্যাদি
খ. মোশন ডিটেকশন – এর সুবাদে বিদ্যুৎ চমকানোর ছবি তোলা যাবে
গ. ইউএসবি রিমোট – ঘরে তৈরী খূব সাধারণ মানের একটা রিমোট দিয়ে দূর থেকে শাটার রিলিজ করা যাবে
ঘ. স্ক্রিপ্টিং – স্ক্রিপ্ট দিয়ে টাইম ল্যাপস ফটোগ্রাফী, মোশন ডিটেকটেড এক্সপোজার, এডভান্স ব্র্যাকেটিং ইত্যাদির সূবিধা পাওয়া যাবে।

আরো অনেক ফিচারই পাবেন, বিস্তারিত জানতে manual এবং FAQ পেজগুলি ভিজিট করুন।

এটা সম্পূর্ণই ফ্রি এবং ক্যামেরার মূল ফার্মওয়্যারটির কোন পরিবর্তন হয় না। এই CHDK কাজ করে ক্যামেরার SD মেমরি কার্ড থেকে। তবে থার্ড পার্টি প্রডাক্ট বলে এটি ব্যবহারের সব দায় দায়িত্ব আপনার। বিস্তারিত জানতে F.A.Q. পেজটি দেখুন।

তবে এটি সব ক্যানন ক্যামেরায় ব্যবহার করা যাবে, তা কিন্তু না। এই পেজে গিয়ে আগে দেখে নিন আপনার ক্যামেরা মডেলটি কাজ করবে কিনা।

কিভাবে শুরু করবেন – প্রথমে দেখে নিন আপনার ক্যামেরা মডেলটি উপযুক্ত কিনা। উপযুক্ত হলে এবার আপনার জানার পালা আপনার মডেলটির ফার্মওয়্যার ভার্সন কত। এটা জানার জন্য আপনার একটা ছোট ফাইল লাগবে। এটা CHDK সাইটেই পাবেন বা আপনি নিজেই তৈরী করে নিতে পারেন। একটা খালি (ব্ল্যাংক) নোটপ্যাড খূলে সেটা save as দিয়ে সেভ করুন ver.req নামে, খেয়াল রাখবেন এটা টেক্সট ফাইল হিসেবে সেভ হবে না। All Files সিলেক্ট করে সেভ করুন। এবার এটি কপি করুন আপনার মেমরি কার্ডে এবং এরপর কার্ডটি আপনার ক্যামেরায় প্রবেশ করান। ক্যামেরাটি অন করুন প্লে ব্যাক মোডে। পিছনের এলসিডি স্ক্রিনে no image দেখাবে। এবার ফাংশন কি (বড় গোল বাটন) এবং ডিসপ্লে (DISP) বাটন প্রেস করে ধরে থাকুন, স্ক্রিনে আপনার ক্যামেরার ফার্মওয়্যার ভার্সন দেখাতে। সেটা লিখে রাখুন।

এবার আপনার ক্যামেরার মডেল নাম্বার এবং ফার্মওয়্যার ভার্সন নাম্বার মিলিয়ে CHDK সাইট থেকে আপনার ফার্মও্যারটি ডাউনলোড করে নিন। এটা সাধারণত জিপ ফাইল হিসেবে থাকে। জিপ ফাইল এক্সট্র্যাক্ট করে মেমরি কার্ড সেভ করুন। এবার মেমরি কারড ক্যামেরায় ঢুকিয়ে সেটা অন করুন।

তবে ক্যামেরা অন করলেই সব পরিবর্তন হয়ে যাবে না। প্রতিবার একটা নির্দিষ্ট নিয়মে আপনাকে তাজ করতে হবে। ক্যামেরা অন করুন প্লে ব্যাক মোডে। এবার আপনার মেনু বাটনটি চাপুন। যদি CHDK এর সব ফাইল ঠিকমতো কপি করে থাকেন মেনুর সবচেয়ে নিচে একটা নতুন এন্ট্রি পাবেন – ফার্মওয়্যার আপডেট। এটাতে ক্লিক করুন, কনফার্মেশন চাইলে ওকে করুন। CHDK এর একটা splash screen দেখাবে। তারমানে আপনার ক্যামেরায় CHDK লোড হলো। অন স্ক্রিন ডিসপ্লে তে নতুন অনেক কিছুই দেখতে পাবেন। আর মেনু তো পাবেন বিশাল একটা। কোনটা কিভাবে ব্যবহার করবেন সেটা কষ্ট করে ম্যানুয়াল দেখে জেনে নিন।

১. ক্যানন হ্যাকার’স ডেভেলপমেন্ট কিট
২. CHDK ম্যানুয়াল
৩. CHDK FAQ
৪. ইন্সষ্টলেশন গাইড (ইউটিউব ভিডিও লিংক)
৫. CHDK Dummies Guide 2nd Edition

এছাড়া ইউটিউবে CHDK লিখে অনুসন্ধান করলে আরো অনেক ভিডিও পাবেন

এই ভিডিও দেখতে পারেন

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.