কম্পিউটার নিয়ে দু’ছত্র

পারসোনাল কম্পিউটার বা পিসি’র সাথে পরিচয় হয়েছিলো ষ্টকহোম, সুইডেনে। উভের বাসায় ছোট একটা পিসি ছিলো, সাথে প্রিন্টার। যে কয়বার উভের বাসায় গিয়েছি এক-আধটু নেড়ে-চেড়ে দেখা হয়েছে। তখন অবশ্য কিছুই বুঝি নাই। ওয়ার্ডপারফেক্ট দিয়ে টুকটাক লেখা তারপর প্রিন্ট করা, এই তো। দেশে আসার কয়েক বছর পর স্প্যানিশ ভাষা শিখতে গিয়ে পরিচয় হলো এক বিশিষ্ট ভদ্রলোকের সাথে। তিনি এপ্লাইড ফিজিক্সে মাষ্টার্স করে এক প্রতিষ্ঠানে পার্ট টাইম জব করতেন। ইলেক্ট্রনিক্সে ব্যাপক জ্ঞান থাকায় কম্পিউটার থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছু নিয়েই কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই মূলতঃ কম্পিউটার সম্পর্কে অনেক কিছু জানার সূযোগ হয়েছিলো।

১৯৯৪ সালের দিকে বাংলা মোটরে অবস্থিত এক কম্পিউটার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবহুত পিসিগুলি বিক্রি করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলো। তাকে নিয়ে গেলাম সেই প্রতিষ্ঠানে। টাকা কিছু কম থাকায় হার্ডডিষ্ক ছাড়াই একটি এক্সটি কম্পিউটার কিনে ফেললাম। দাম ছিলো হাজার দশেক। সেটি চালাতে হতো সোয়া পাঁচ ইঞ্চি ফ্লপি ড্রাইভ দিয়ে। অপারেটিং সিষ্টেম ছিলো ডস। প্রথমে বুট করে সেই ফ্লফি ডিস্ক বের করে ওয়ার্ড পারফেক্ট বা অন্য কোন প্রোগ্রামের ফ্লপি ডিস্ক ঢুকিয়ে সেই প্রোগ্রাম চালাতে হতো। আমার সেই এক্সটি (৮০৮৮ প্রসেসর) কম্পিউটার এর ram ছিলো মনে হয় ৬৪ কেবি। এই ram গুলি ছিলো ছোট ছোট আইসি। এক একটা মনে হয় ৮ কেবি করে মোট ৮টি আইসি। তবে পুরাতন হওয়ায় এই পিসি ঠিক রাখতে প্রানান্তকর অবস্থা হতো। আজ এই সমস্যা, কাল সেই সমস্যা লেগেই থাকতো। বাজারে তখন 286 / 386 মডেল চলে এসেছে। তাই সার্ভিসিং এর জন্য এই পিসি নিয়ে গেলে এক ধরণের করুণা মিশ্রিত দৃষ্টি দেখতে পেতাম সেই সব টেকনিশিয়ান (?) দের চোখে। এপ্লাইডি ফিজিক্সের সেই ভদ্রলোক অবশ্য অনেক সাহায্য করতেন। তাকে দেখেই সম্পূর্ণ পিসি খুলে আবার এসেম্বল করার সাহস পেতাম। হয়তো দেখা গেলো কোন কারণে পিসি চলছে না। সব খুলে ঝেড়ে-মুছে আবার লাগাতেই পিসি চালু। তবে সমস্যা হলো অন্য। দিনে দিনে এক্সটি কম্পিউটার এর উপযোগী পেরিফেরিয়ালস পাওয়া দুস্কর হয়ে উঠলো। শেষে অনেকটা বাধ্য হয়েই মহামূল্যবান ৫ হাজার টাকা খরচ করে ২০ মেগাবাইটের এক পুরাতন হার্ডডিস্ক কিনলাম। তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। RAM একটা একটা করে নষ্ট হওয়া শুরু করলো। সেগুলো আর পাই না। অনেক খূজে এলিফ্যান্ট রোডের সাবিয়াম থেকে কয়েকটা কিনেছিলাম পরে।

এরপরের পিসি ৩৮৬, সেটাও পুরাতন। সত্যি কথা বলতে কি এখন পর্যন্ত ১০০% নতুন কোন পিসি কেনা হয় নাই। নতুন বলতে প্রসেসর, মাদারবোর্ড আর ram, সাথে পাওয়ার সাপ্লাই, হার্ডডিস্ক, কেসিং এসব পুরাতনই গুলোই ব্যবহার করেছি। কোন একটা পেরিফেরিয়াল নষ্ট হয়, তখন হয়তো নতুন কিনি। এভাবেই চলছে। লেটেষ্ট যে পিসি নিলাম সেখানেও পুরাতন হার্ডডিস্ক আর পাওয়ার সাপ্লাই আছে আর আছে মনিটর।

এবার পিসি তৈরী করতে গিয়ে খেয়াল করলাম নতুন এক জিনিস। এটা আগের বিল্ড এ দেখেছি, তবে এতো ব্যাপক ছিলো না। এবার মনে হলো সবকিছুতেই চলে আসছে। জ্বি, আরজিবি লাইটিং এর কথা বলছিলাম। আগে হয়তো কেবল কেস ফ্যানে ছিলো, তাও একটি করে কালার। এখন ফ্যান তো বটেই প্রায় সব কিছুতেই এই আরজিবি এবং মাল্টিকালার। মাদারবোর্ড এবং কেসিং এ আজকাল এই আরজিবি সাপোর্ট থাকছে। সফটওয়্যার দিয়ে যেগুলো নিয়ন্ত্রন করা যায়। এর নাম এআরজিবি (ARGB) এসিষ্টেড আরজিবি। কেস, কেস ফ্যান, সিপিইউ কুলার বা ফ্যান, ram, এরপর ধরেন এসএসডি’তে এখন এই লাইট আছে। বাই দ্য ওয়ে, পাওয়ার সাপ্লাই থেকে যে ২৪ পিনের পাওয়ার কেবল মাদারবোর্ডে পাওয়ার দেয় সেটিতেও এখন আরজিবি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিবোর্ড আর মাউসে তো আরো আগে থেকেই আছে। এবার অবশ্য পাওয়ার সাপ্লাই এ এই লাইটের ব্যবহার হচ্ছে দেখলাম। আর এই লাইটিং দৃশ্যমান করার জন্য নিত্য নতুন কেসিং ও বাজারে আসছে।

অনেকে অবশ্য এই আরজিবি পছন্দ করেন না। তাদের বক্তব্য কাজে (?) ব্যাঘাত ঘটায়। তারপরও আমার মনে হয় এক-আধটু রং এর ব্যবহার পূরো পিসি’কে অন্য রকম একটা লুক দেয়।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।