নানা কারণেই অনেকের বিয়ে টিকে না। তবে ডিভোর্স হলে বাবা-মায়ের চাইতে বেশী সাফার করে ছেলে-মেয়েরা। আমার এক পরিচিত মহিলা আছেন যিনি ব্রোকেন ফ্যামিলির মেয়ে। বাবা-মা দু’জনেই উচ্চ শিক্ষিত এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। কিন্তু তাদের এই মেয়ে এই ছাড়াছাড়ি সহজ ভাবে নিতে পারে নাই। সে খূব জেদি, তবে তার জেদ ছিলো পজেটিভ। পড়াশোনায় ভাল ছিলো, স্কুল জীবন থেকেই স্কলারশীপের টাকায় পড়াশোনা করেছেন। তার বাবা-মা দু’জনেই আবার বিয়ে করেছিলেন। বাবার সংসারে কয়েকজন ভাই-বোন ও আছে, কিন্তু মায়ের সংসারে সে একাই। আমার পরে মনে হয়েছিলো তার মা হয়তো তার এই জেদি এবং অভিমানী মেয়ের কথা চিন্তা করেই আর সন্তান নেন নাই। সে দুই পরিবারেই থাকতো, তবে মায়ের সংসারই ছিলো তার ঠিকানা। পরবর্তী জীবনে সে মনে হয় একাধিক বিয়ে করেছিলো। তবে এখন প্রবাসে গিয়ে থিতু হয়েছে।
এতো কথা কেন বললাম। গতকাল একজন ফেসবুক ফ্রেন্ড ১৯৯৮ সালে নির্মিত The Parent Trap মুভি নিয়ে পোষ্ট দিয়েছিলো। আমি এই মুভি মনে হয় একাধিকবার দেখেছি। জমজ বোনের চরিত্রে লিন্ডসে লোহানের অসাধারণ অভিনয় এখনও চোখে ভাসে। গল্পের সার সংক্ষেপ হলো –
জন্মের পরপরই বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। দুই জমজ বোনের একজন মায়ের সাথে চলে যায় লন্ডন আর আরেকজন থাকে ক্যালিফোর্নিয়ায়। কাকতালীয় ভাবে হ্যালি আর অ্যানি এই দুই জমজ বোনের দেখা হয় এক সামার ক্যাম্পে। দুইজনের কেউ ই জানে না যে তাদের জমজ বোন আছে। প্রথম পরিচয়ে কিছুটা রেষারেষি থাকলেও দু’জনের মধ্যে গড়ে উঠে বন্ধুত্ব। তখনই তারা আবিস্কার করে তারা আসলে জমজ বোন।
এরপরের কাহিনী আরো মজার। দুই বোন মিলে ঠিক করে তারা তাদের আইডেণ্টিটি পরিবর্তন করবে, মানে হ্যালি হবে অ্যানি আর অ্যানি হবে হ্যালি। সেই মোতাবের একজন চলে যায় ক্যালিফোর্নিয়ায়, আরেকজন লন্ডনে। এতো বছর পরে বাবা-মাও ধরতে পারে নাই যে মেয়ে বদল হয়ে গেছে। নানা মজার ঘটনার মধ্যে দিয়ে গড়াতে কাহিনী। এরমধ্যে তারা জানতে পারে বাবা মেরিডিথ নামের এক লোভী আর স্বার্থপর মহিলাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। অ্যানি আর হ্যালি দুই বোন পরামর্শ করে সেই বিয়ে আটকে দেয়। বাবা-মায়ের কাছে নিজেদের আসল পরিচয় তুলে ধরে আর বাবা-মায়ের পুনর্মিলনের মাধ্যমে শেষ হয় কাহিনী।
কিন্তু গল্পের গরু গাছে উঠলেও এরকম ঘটনা বাস্তবে ঘটে না।
ফটো ক্রেডিট : চ্যাটজিপিটি
ফটো ক্রেডিট : চ্যাটজিপিটি
