দুঃশ্চিন্তা

গত প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে বাসার সবাই বেশ দুঃচিন্তায় ছিলাম। দুঃচিন্তার কারণ দুলাভাই। তার কানের কাছে আর পিঠে জরুল টাইপের কি যেন বের হয়েছে এবং সেগুলো বড় হচ্ছিলো। পিঠের জরুল মনে হয় আগে থেকেই ছিলো। কিন্তু ইদানিং সেটি বড় হচ্ছিলো। কানের কাছের জরুলটি সাম্প্রতিক কালের। এক নাপিত সেটি প্রথম খেয়াল করে এবং দুলাভাই’কে হোমিওপ্যাথি ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেয়। সেটিও বাড়ছিলো।
 
দুলাভাই এর পরিবারে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে। গত ১০/১২ বছরের মধ্যে তার ৩ আপনজন ক্যান্সারে মারা গেছেন। একজন তার মেঝ বোন, তারপর তার ছোট বোনের ছেলে এবং সবশেষে তার বড় বোনের মেয়ে। স্বভাবতই আমরা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পরে আপার পীড়াপীড়িতে দুলাভাই একজন ডাক্তার দেখান। সেই ডাক্তার আবার পরামর্শ দেন একজন ডার্মাটোলজিষ্ট দেখানোর। তিনি আবার আরেক ডার্মাটোলজিষ্ট’কে রেফার করেন। তারা দু’জনেই বলেন এটি হয়তো স্কিন ক্যান্সার। একটি ছোট সার্জারির মাধ্যমে এটি অপসারণ করতে হবে এবং পরে সেটির বায়োপসি করতে হবে। আমরা আরো বেশী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।
 
দুলাভাই এর এক সুহৃদ তাকে ৩য় আরেকজন ডার্মাটোলজিষ্ট এর কাছে নিয়ে যান। তিনি জানান এটা তেমন কিছুই না। লেজার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ফেলে দিলেই হবে। তখন তাকে তার পরিবারের ক্যান্সারের ইতিহাস জানালে তিনি বলেন এটা ম্যালিগন্যান্ট কিনা তার একটি টেষ্ট আছে। তিনি এই টেষ্ট করে তারপর লেজার ট্রিটমেন্ট করবেন। পরে বায়োপসি করার সূযোগ নাই কারণ লেজার ট্রিটমেন্টে এটি পুড়িয়ে দেয়া হয়।
 
আমরা উদ্বিগ্ন তো ছিলামই, এবার মোটামুটি কনফিউজড হয়ে গেলাম। দুলাভাই শেষ পর্যন্ত বললেন তাহলে সেই টেষ্ট আগে করে ফলাফল দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। 
 
গতকাল সন্ধ্যায় সেই টেষ্ট হলো, ফলাফল ভালই। মানে এটি ম্যালিগন্যান্ট ছিলো না। পরে লেজার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমেই সেটি অপসারণ করা হয়েছে।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।