কোবরা কাই

এ্যালি এবং ড্যানিয়েল

সেদিন ইউটিউব আর গুগলে সার্চ করছিলাম নেটফ্লিক্সের সেরা মুভি / সিরিজ নিয়ে। সার্চ রেজাল্টে ‘কোবরা কাই’ নামটা দেখে মনে হচ্ছিলো নামটা আমি আগেও কোথাও শুনেছি। কিন্তু মনে করতে পারছিলাম না। আরেকটু খোঁজ করতেই জানা গেলো এটি আশির দশকের কিশোর / তরুনদের প্রিয় একটি সিনেমা ‘দ্য কারাটে কিড’ এর কাহিনী ঘিরেই তৈরী হয়েছে। আশির দশকের বেশ কিছু সিনেমা এখনও দেখতে ভাল লাগে, তার মধ্যে এই কারাতে কিড অন্যতম। যদিও  ছবির নায়ক ড্যানিয়েল লারুসো নিয়ে খূব একটা বলার ছিলো না। বরং তার মেন্টর মিষ্টার মিয়াগি অনেক বেশী আর প্রিয় চরিত্র ছিলো। আর ছিলো এ্যালি। এ্যালি মনে হয় সেসময় অনেক কিশোর / তরুনের স্বপ্নে হানা দিতো। এ্যালি চরিত্রে ছিলেন এলিজাবেথ স্যু, আশির দশকের আরেক আলোচিত সাই ফাই মূভি ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ এর কোন একটি সিক্যুয়েলে ছিলেন। তার আরো একটি মুভি দেখেছিলাম, কিন্তু এই মূহুর্তে নাম মনে করতে পারছি না। 

‘দ্য কারাটে কিড’ এর আরো একটি সিক্যুয়েল তৈরী হয়েছিলো জানতাম। যদিও সেটি দেখা হয়নি। কোবরা কাই দেখার আগে মনে করলাম আগে দ্য কারাটে কিড দেখি। তখন জানলাম একটি না, কারাটে কিড এর আরো দু’টি সিক্যুয়েল তৈরী হয়েছিলো। কিন্তু নেটফ্লিক্সে ২য় সিক্যুয়েলটি খূঁজে পেলাম না। সেখানে পার্ট টু বলে যেটি আছে সেটি আসলে দ্য কারাটে কিড এর রিমেক ভার্শন। মিষ্টার মিয়াগির জায়গায় এসেছেন মিষ্টার হান আর ড্যানিয়েলের জায়গায় ড্রে পার্কার। মিষ্টার হান এর চরিত্রে অভিনয় করেন জ্যাকি চ্যান। আপাতত তাই ৩য় সিক্যুয়েলটি আগে দেখলাম, যেখানে ড্যানিয়েল ২য় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো।

কোবরা কাই এর কাহিনী শুরু হয়েছে কারাটে কিড এর কাহিনীর ৩০ বছর পরে, যখন দ্য কারাটে কিড এর সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। মিষ্টার মিয়াগি গত হয়েছেন। ড্যানিয়েল সফল একজন ব্যবসায়ী। কিন্তু তার সেই প্রতিদ্বন্দ্বী জনি লরেন্স তখন সব দিক থেকেই ব্যর্থ একজন মানুষ। এই দু’জন এবং তাদের পরিবারকে ঘিরেই তৈরী হয়েছে কোবরা কাই। দ্য কারাটে কিডে জনি লরেন্স ছিলো কোবরা কাই শিক্ষার্থি। 

এলিজাবেথ স্যু
সেই সময় / এই সময়

এপর্যন্ত ৩ সিজন চলছে কোবরা কাই এর। আমি আপাতত সিজন ২ আছি। সিরিজটি ভালই লাগছে তবে মজার বিষয় হলো দ্য কারাটে কিড এ যারা মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সেই ড্যানিয়েল এবং জনি’র চরিত্রে তারাই আছেন। এই জন্যই মনে হয় এই সিরিজটা দেখে আরো বেশী আনন্দ পাচ্ছি।

সময় পেলে দেখতে পারেন। ভাল লাগবে আশা করি। বাই দ্য ওয়ে, সিজন ৩ এ শুনলাম মানে নেট থেকে জানলাম সেই এ্যালি মানে এলিজাবেথ স্যু ও থাকবেন কয়েকটি এপিসোডে। 

ঘরে থাকুন, ভাল থাকুন।

 

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।