টিভি বক্স

শেষ পর্যন্ত একটি টিভি বক্স কিনেই ফেললাম। বাসায় টিভি আছে,তবে নিজের সূবিধা মতো সময়ে পছন্দসই চ্যানেল বা প্রোগ্রাম দেখা বেশ কষ্টকর। এক এক জনের পছন্দ এক এক রকম। আবার টিভি একটা আছে আব্বার রুমে, তার নাকি শব্দে মাথা ধরে । তাই সেখানেও শান্তি মতো টিভি দেখা যায় না। তাই টিভি বক্স কেনার সিদ্ধান্ত। টিভি কেনার বদলে টিভি বক্স কেন ? প্রথমত বাজেট কম, দ্বিতীয়ত রুমে তো ডেস্কটপ পিসির মনিটর আছেই। সেটায় আবার এইচডিএমআই পোর্ট ২টা। তাই ক্যাবল খোলাখুলির ঝামেলা নাই।

ফেসবুকের কয়েকটি গ্রুপ এবং বিভিন্ন ভেন্ডরের ওয়েব সাইট থেটে কয়েকটি ব্র্যান্ড এবং মডেল বেছে বের করেছিলাম। সবারই মোটামুটি পছন্দ হলো শাউমি’র এমআই টিভি ষ্টিক এবং টিভি বক্স এস। তবে ram / rom এর তুলনায় এগুলোর দাম অপেক্ষাকৃত বেশী। যদিও সবাই বলছিলো এদের পারফর্মেন্স বেশ ভাল। আমার দ্বিতীয় পছন্দ হলো Tanix এর TX6 টিভি বক্স। RAM ৪ জিবি ROM ৩২ জিবি। স্মার্ট টিভি / স্মার্ট টিভি বক্স ইউজার্স বিডি নামের এক ফেসবুক গ্রুপে আমার এক পোষ্টের পরিপ্রেক্ষিতে একজন ইনবক্সে একটা অফার দিলেন। শিপিং সহ আমার খরচ পড়বে ৩১০০ টাকার মতো। অন্যান্য সোর্সে এর দাম প্রায় ৩৫০০ টাকা। সুতরাং প্রস্তাবটি গ্রহন করে ফেললাম। ভদ্রলোক বেশ দ্রুততার সাথে ডেলিভারী দিয়েছেন। রাত্রে অর্ডার করার পর পরদিন রাত প্রায় ১০টার দিকে ডেলিভারী পাই।

প্রথম দিকে অবশ্য খূব ভাল লাগে নাই। অবশ্য এর প্রধান কারণ ছিলো এই স্মার্ট টিভি চালানোর অভিজ্ঞতার অভাব। বেশ কিছু ওটিটি সার্ভিস এপস ডাউনলোড করে তেমন সূবিধা করতে পারছিলাম না। প্রথম সমস্যা হচ্ছিলো রিমোট নিয়ে। এটা দিয়ে ঠিকমতো ব্রাউজ করা যাচ্ছিলো না। বিশেষ করে টফি নামের এপ বা বায়োস্কোপ / বঙ্গ এপস গুলিতে টিভি দেখতে গেলে এক চ্যানেল থেকে আরেক চ্যানেলে যাওয়া ছিলো বিশাল ঝামেলার। রিমোটের বাটন টিপতে টিপতে হাত ব্যাথা হয়ে যাচ্ছিলো, কিন্তু চ্যানেল আর চেঞ্জ হচ্ছিলো না। টিভি বক্স নিয়ে অনেকটাই আশাহত হয়েছিলাম বলা চলে।

পরে নেট ঘেটে আরো কিছু জ্ঞানার্জনের পর আ্ইপি টিভি দেখবো ঠিক করলাম। তবে প্রথমে পেইড কোন সার্ভিস না। নেটে ফ্রি আইপি টিভির অনেক প্লে লিষ্ট পাওয়া যায়, সেগুলোই ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলাম। সেগুলো যদি ঠিকমতো চালাতে পারি তখন পেইড সার্ভিস নেয়ার কথা চিন্তা করা যাবে।

শেষতক আইপি টিভি লাইট নামে একটা এপ ডাউনলোড করলাম। খূজে পেতে গোটা দুই প্লে লিষ্ট ও ডাউনলোড করলাম। প্রথম প্লে লিষ্ট ছিলো ইন্টারন্যাশনাল আর দ্বিতীয়টি লোকাল। তবে লোকাল প্লে লিষ্ট এ যে সকল দেশী / বিদেশী চ্যানেল আছে তা সবসময় পাওয়া যায় না, বিশেষ করে বিদেশী পেইড চ্যানেলগুলো। তবে ইন্টারন্যাশনাল / লোকাল ফ্রি চ্যানেলগুলো ভালই দেখা যায়। অল্প কয়েকটি ক্ষেত্রে বাফারিং হয়।

আরো কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পর যা বুঝলাম বায়োস্কোপ / বঙ্গো / টফি এসব এপস আসলে মোবাইলের জন্য তৈরী বলে টিভি বক্স বা স্মার্ট টিভিতে হয়তো ঠিকমতো কাজ করে না। ফেসবুকের সেই গ্রুপেই কিছু মডেড এপ পেলাম যে গুলো ডাউনলোড করে ইনষ্টল করার পর কাজ করেছে ঠিক মতোই। তবে এপর্যন্ত ৩টি মডেড এপ কাজ করে নাই, চালুর পর পরই ক্র্যাশ করছে।

এরপর হইচই / আড্ডা টাইমস আর আমাজন প্রাইম ভিডিও সাবস্ক্রাইব করলাম। আপাতত মনে হচ্ছে আর কিছু দরকার নেই। সারাদিন টিভির সামনে বসে থাকলেও এতো কন্টেন্ট দেখতে হয়তো কয়েক যুগ লাগবে। আমি সাধারণত হইচই / আমাজন প্রাইম ভিডিও গুলো ডাউনলোড করে রাখি, তারপর সূবিধামতো সময়ে দেখি। বাসার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনেক এবং তারা নিয়মিত অফিস মিটিংও করে এই একই লাইনে। তাই টিভি দেখতে গিয়ে যাতে কাজের ক্ষতি না হয় সেদিকটাও তো দেখতে হবে। আরেকটা কথা বলে রাখি – এসব ডাউনলোড করা ভিডিও কিন্তু এনক্রিপটেড, কপি করে অন্য কোথাও দেখবেন বা দেখাবেন সেটি কিন্তু হবে না।

আপাতত এই হলো আমার টিভি বক্সের ইতিহাস।

ভাল থাকুন, জীবন উপভোগ করুন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।