দূর্নীতি, ক্যাসিনো এবং আরো কিছু

গত কয়েকদিন ধরে অনলাইন / প্রিন্ট মিডিয়া সরগরম ক্যাসিনো নিয়ে। সাথে স্বভাবতই চলে আসছে দূর্নীতির খবর। রাঘব-বোয়ালদের সংশ্লিষ্টতা ঠারে ঠোরে শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত সেরকম কারো নাম প্রকাশ হয়নি, গ্রেফতার তো অনেক দূরের ব্যাপার। এমন কি ছাত্র লীগের সদ্য বহিস্কৃত যারা বিলাসী জীবন-যাপন করতেন বলে জনশ্রুতি আছে তাদের বিরুদ্ধেও তেমন কোন আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে না। গ্রেফতারকৃত সেই ৩জনই – খালেদ মাহমূদ ভূঁইয়া, জিকে শামীম এবং শফিকুল আলম ফিরোজ। যুবলীগের আরেক নেতা ইসমাঈল হোসেন চৌধূরী সম্রাট কর্মীবাহিনী পরিবেষ্টিত অবস্থায় কাকরাইলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছেন, তার বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার এরকম নানা কথা শোনা যাচ্ছে। আবার এও শোনা যাচ্ছে যে এগুলো সব আইওয়াশ, সম্রাট দেশ ত্যাগ করেছেন উপর মহলের আশীর্বাদে। সময়ই বলে দিবে সম্রাট আসলে কোথায়।

বাংলাদেশে দূর্নীতি নতুন কিছু না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও এই একটি বিষয়ে মনে হয় দিন দিন আমাদের অবনতি হচ্ছে, মানে দূর্নীতি বাড়ছে লাগামছাড়া গতিতে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু মোসাহেব সবসময়ই চেষ্টা করেন নেগেটিভ কোন বিষয়ে বিএনপি সরকারের উপর দোষ চাপিয়ে দিতে। এবারেও ব্যতিক্রম হয়নি। তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমূদ তো বলেই ফেলেছেন মদ-জূয়া চালু করেন জিয়াউর রহমান। অতি সত্যি কথা, কিন্তু ৩বার ক্ষমতায় আসার পরও আওয়ামী লীগ সরকার কেন এসব বন্ধ করলো না বা করতে পারলো না সে প্রশ্নের উত্তর কি তিনি দিতে পারবেন ? তার থেকেও বড় প্রশ্ন তার দলের / অঙ্গসংগঠনের নেতারাই তো এখন ক্যাসিনো / জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রন করছে। চাঁদাবাজি কারা করছে সে প্রশ্ন ও এসে যায়। উপরের দিকে তাকিয়ে থু থু ফেললে যে নিজের মূখেই পরে সে বোধটুকু এইসব তথাকথিত নেতা (?) দের নাই। আরেকজন আছেন বৌ কোটায় নেতা বনে যাওয়া যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধূরী। ক্যাসিনো অভিযানের পর ব্যাপক লম্ফঝম্প দিয়ে হুমকি দেয়ার পর এখন ‘মাইরা পাছা লাল করতেছে’ বলে বেড়াচ্ছেন।

আরো এক বিষয়ে সবাই নিরব। এইসব নেতাদের অবৈধ আয়ের উপকারভোগী কে বা কারা ছিলো সে সম্পর্কে তেমন কোন কথা নাই। খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া নাকি অনেকের নাম বলেছেন। জি কে শামীম বলেছেন সরকারী কর্মকর্তাদের নাম। তো এইসব উপকারভোগীদের ব্যাপারে কোন আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নেয়া না হলে হয়তো স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের আফজালের মতো হয়তো এরাও অবৈধ পন্থায় অর্জিত সব কিছু নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে।

ক্যান্সার শুরুতে ধরা পরলে যদি ব্যবস্থা নেয়া হয় তো জীবন বাঁচতেও পারে। কিন্তু ব্যবস্থা না নিলে বাঁচার কোন উপায়ই থাকে না। আমাদের অবস্থা হয়েছে অনেকটা সেরকমই। সমাজে ঘুষ-দূর্নীতি ওপেন সিক্রেট। তারপরও আমরা চোখ বন্ধ করেছিলাম। যারা ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্বে ছিলেন তারা চোখ বন্ধ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলার পর এখন মনে হচ্ছে সবাই ঘুম থেকে উঠে চোখ ডলতে ডলতে এসে অবাক হয়ে বলছে ‘আরি বাবা ! এতো ভয়ানক অবস্থা’। আর মূল সমস্যা এখানেই। শুরুতে কনট্রোল না করলে পরে এসব এমনই বাড়ে যে আপনি ভয়ঙ্কর রকমের চেষ্টা না করলে আলটিমেটলি কোন সমাধানে পৌছাতে পারবেন না। আর টাকা এমন জিনিস, যার আছে তার ক্ষমতাও আছে। আজ হয়তো খালেদ, শামিম ধরা খেলো। গাঁ ছাড়া দিলেই দেখা যাবে তাদের শুন্যস্থানে অন্য কেউ চলে আসছে। আর এই অবৈধ টাকার উপকারভোগী তো অনেক। দলের ভিতর, প্রশাসনের ভিতর, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভিতর। সেই সাথে আছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আর দেশী-বিদেশী অপশক্তি – যারা সূযোগের অপেক্ষায় আছে। সবাইকে ম্যানেজ করা আসলেই কঠিন।

গ্রেফতার

পাদটিকা : জুয়া খেলতে গিয়ে জনৈক সাংবাদিক পুলিশের হাতে ধরা পরেছিলো। এসংক্রান্ত খবরও এসেছিলো বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে। পরে মনে হয় মুচলেকা দিয়ে জামিনও পেয়েছিলেন। ঘটনা হলো এরপর থেকে সেইসব অনলাইন পোর্টাল থেকে এসংক্রান্ত খবর ‘হাওয়া’ হয়ে যাচ্ছে।

ভাল থাকুন সবাই।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।