দূর্নীতি, দেশ এবং পশ্চিমা বিশ্ব

ইদানিং দূর্নীতি সর্বগ্রাসী হয়ে উঠছে। দূর্নীতির খবর পত্রিকায় আসে, সবই কোটি কোটি টাকার। এদিকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সটকে পরছেন অনেকে। এই বিষয়ে সর্বশেষ সংযোজন আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকীর পরিবার। ৩ ব্যাংক এর পাওনা ১৪২ কোটি টাকা না দিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা দেশান্তরি হয়েছেন (সূত্র : বনিক বার্তা)। এর আগে খবর হলো প্রশান্ত কুমার হালদার নামে একজন ৩৫০০ কোটি টাকা পাচার করে ফেলেছেন, তিনিও দেশান্তরি (সুত্র : প্রথম আলো)। যে ভাবে চারিদিকে দূর্নীতির মহোৎসব চলছে তাতে সন্দেহ হয় দেশ ই না জানি কবে অন্যের হাতে চলে যায়।

আজ পত্রিকা পড়তে গিয়ে দু’টো খবর চোখে পরলো। এক. আমাজনের জেফ বেজোস ভারতে আরো ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আর দুই. চীনের প্রেসিডেন্ট মিয়ানমারে শতকোটি ডলারের প্রকল্প নিয়ে যাচ্ছেন। এর বিপরীতে বাংলাদেশে বড় কোন বিনিয়োগের খবর নাই। আর সাধারণের বিনিয়োগের যে ক্ষেত্র – সেই শেয়ার বাজারে তো এখন আবার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বাংলাদেশের শেয়ার বাজার এক অদ্ভুদ কিসিমের বিনিয়োগ ক্ষেত্র। সূচক বাড়তে থাকলে লোকজন কিছু বুঝুক আর না বুঝুক ঘটিবাটি বিক্রি করে, ধারকর্জ করে বিনিয়োগ করে। আবার সূচক নামতে থাকলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ আন্দোলন করে। তাতে সূচক আবার কিছুটা বাড়ে। এবার অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিলো। তিনি কিছু নির্দেশনা দেয়ার পর সূচক আবার উর্ধমুখী। শেয়ার ব্যবসার আরেক নাম ফাটকা ব্যবসা, কিন্তু তারপরও মনে হয় বাংলাদেশের শেয়ার বাজার পুরোটাই অশ্বডিম্ব।

বলছিলাম বাংলাদেশের দূর্নীতির কথা। দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দূর্নীতিবাজরা বিদেশে পাচার করে ফেলছেন। পৃথিবীর অনেক দেশেই বিনিয়োগ করলে মাইগ্রেট করার সূযোগ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের লোকজন কানাডা, মালয়েশিয়া এবং হালে অষ্ট্রেলিয়ায় বিনিয়োগ করছেন। পাচার করা অর্থ বৈধ না অবৈধ পথে অর্জিত, বেধ পথে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছে – এসবের কোন বালাই নেই। এই দেশে টাকা ঢুকছে, এতেই তারা খুশী। কেবল যে বাংলাদেশ থেকে দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ এসব দেশে ঢুকছে তা কিন্তু না। তুতীয় বিশ্বের অন্য সব দেশের দূর্নীতিবাজরাও আশকারা পাচ্ছে। সেই সাথে বিভিন্ন দেশে নানা অপরাধ করেও তারা আশ্রয় নিচ্ছে এসব দেশে। অনেকটা দূর্নীতিবাজ আর অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছে এসব দেশ। আগে কলোনিয়াল ব্রিটিশরা ছলে-বলে-কৌশলে বিভিন্ন দেশে রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে লুঠতরাজ কে তাদের দেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। এখন এই সব দেশ সরাসরি লুঠতরাজ না করে দূর্নীতিবাজদের আশ্রয় দিয়ে নিজেদের অর্থনীতি বেগবান করছে। সেই সাথে তো আছে ব্রেইন ড্রেইন।

কানাডা, মালয়েশিয়া আর অষ্ট্রেলিয়ার এই নীতি তৃতীয় বিশ্বের দূর্নীতি আরো বেশী বেগবান করছে। একজন দূর্নীতিবাজ যখন জানছে তার অবৈধ অর্থ কোনভাবে এই সব দেশে নিতে পারলেই তাকে আর কেউ ছুতে পারবে না, তখন সে আরো বেশী করে দূর্নীতি করছে। এই সূযোগ না থাকলে হয়তো দূর্নীতি এতোটা সর্বগ্রাসী হতো না। আমি স্বীকার করি দেশে কোন না কোন ভাবে সবকিছু ম্যানেজ করা যায়। নীতি-নির্ধারক আর নির্বাহীরাও জ্ঞানে-সজ্ঞানে-অজ্ঞানে দূর্নীতিবাজদের পুষে থাকেন। না হলে পরিবহন খাতের চাঁদাবাজরা রাজনৈতিক দলের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য থেকে শুরু করে মন্ত্রী হয় কিভাবে। যা বলছিলাম। অবৈধ অর্থ পাচার করে বিদেশে বৈধ হয়ে যাওয়ার এই সূযোগ না থাকলে হয়তো দেশে দূর্নীতি এতো ডালাপালা বিস্তার করতো না। তখন হয়তো সুশাসনের দাবী আরো বেগবান হতো। দূর্নীতিবাজদের ধরে বিচার করা যেতো। আর এখন দূর্নীতি করে সঠকে পরছে, বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁবে। দেশে পরে থাকবে আমার আপনার মতো আম জনতা, যাদের কোথাও যাওয়ার কোন সূযোগ নেই।

পাদটীকা : দুনিয়ার অনেক দেশেই বিনিয়োগ করে মাইগ্রেট করার সূযোগ আছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের কোন দেশে তো বিনিয়োগ করে তো অবৈধ অর্থ পাচারের কোন ঘটনা শুনতে পাই না।

ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।