শেয়ার বাজার

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে কোটিপতি হওয়ার আশা অনেক দিনের। খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম। এক বন্ধুর ছোট ভাই শেয়ার ব্যবসা করতো । তার সাথে যোগাযোগ করতেই সে একবারে আশাহত করে দিলো। তার পাঠানো মেসেজ দেখেন

“ভাই আসসালামুআলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালো আছি। ভাই আমি না বুঝে লোভ করে গিয়েছিলাম, একেবারেই ঠিক হয়নি আমার । মা-বাবার+ভাইদের দেয়া ২১/২২ লক্ষ টাকা একেবারে পানিতে, তাই আমি এখন বেকার বাসায় বসা, আপনি একেবারেই এই অপকর্মের মধ্যে যাইয়েন না। এটা আমাদের মত অল্প টাকার ব্যাবসা না। এই ব্যবসা ‘…..’ দের জন্যে । আপনি ভাই যাইয়েন না ,এই লোভে পারেন না । আউটসোর্সিং জাতীয় কিছু করলে আমি রাজি আছি, যদি মনে করেন। শেয়ার বাজার মরিচিকা।
না ,না, না !!!” 

সেসেজ সামান্য এডিট করা (বানান এবং একজনের নাম)। আমি জানতাম সে কিছু লসে আছে। কিন্তু ২১/২২ লাখ টাকা সেটা কিন্তু চিন্তাতেও আসে নাই। তাই শুরুতেই হতোদ্যম। তারপার আমার বিনিয়োগ করার ক্ষমতা খূব বেশী হলে ২/৩ লাখ। কিন্তু কোটিপতি হবো কিভাবে !?! 

আমি খোঁজ খবর করতে থাকলাম। ফেসবুকের বেশ কয়েকটা শেয়ার সংক্রান্ত গ্রুপে এড হলাম। চেনা পরিচিত অর্ধ পরিচিত কয়েকজনকে মেসেজ দিলাম, ফোনে কথা বললাম। সবারই এক কথা এই ব্যবসায় আসা ঠিক হবে না। কয়েক কোটি টাকা যদি ম্যানেজ করতে পারো তো আসো। 

তবে যাদের সাথে কথা বললাম তাদের বড় একটা অংশ ট্রেডিং হাঊজে গিয়ে ট্রেড করে। অল্প কয়েকজন মাত্র বাসা বা অফিসে পিসি বা নিের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ট্রেড করে। আমি আগেও একবার শেয়ার ব্যবসায় ঢুকেছিলাম। সামান্য পূঁজি নিয়ে, তারপর সামান্য লাভ নিয়ে বের হয়ে গিয়েছিলাম। সেই পূঁজি আর লাভ দিয়ে আমি আমার প্রথম  পিসি কিনেছিলাম। সেটি অবশ্য সেকেন্ড হ্যান্ড পিসি ছিলো এবং তাতে কোন হার্ডডিস্ক ছিলো না। 

ট্রেডিং হাউজে বসে শেয়ার ব্যবসা করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মত। আমার এই মতের কারণ হলো ট্রেডিং হাউজগুলো গুজবের আড্ডাখানা। আপনি বসবেন কেউ না কেউ আলাপ শুরু করবে অমুক শেয়ার তো সোনার খনি, কয়েক দিনের মধ্যেই কি খেলাটা হয় দেখবেন। কিংবা অমুক শেয়ার কি এখনও কিনেন নাই। করছেন কি ভাই। আপনার মতো বলদা তো দেখি নাই কখনও। কিনে ফেলেন ভাই। বোকামি কইরেন না। বেশীর ভাগ আমজনতা এসব খায় এবং গোগ্রাসে খায়। তারপর ধরাটা খায়। মার্কেট নিয়ে কোন লেখাপড়া করে না। কেবল গুজবের উপর ভিত্তি করে তারা শেয়ার কেনে আর বিক্রি করে। মাঝখান থেকে পুঞ্জিপাট্টা হওয়া হতে থাকে। 

এটা ঠিক যে বাংলাদেশের শেয়ার নিয়ম নীতি মেনে চলে না। মানে কোম্পানির মৌল ভিত্তি, ইপিএস, নেভ ইত্যাদি মেনে সবসময় ঠিক আচরণ করে না। অনেক ক্ষেত্রেই শেয়ার বাজারের উত্থান-পতন হয় গুজবে। না হলে জেড ক্যাটাগরির বন্ধ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ে কি ভাবে !?! আর কিছু ইনসাইড ষ্টোরি তো থাকেই কিছু না কিছু। ইদানিং যেমন হিরো এবং সাকিব আল হাসানের কথা খূব জোরে সোরে শোনা যাচ্ছে। 

শেয়ার বিষয়ক গ্রুপ গুলোতে কিছু পাবলিক পাবেন যারা বেশ মূখরোচক পোষ্ট দেয়। যেমন

কিংবা এরকম 

তবে এরা কিন্ত জনসেবা করার জন্য এই পোষ্ট দেয় নাই। তথ্য নিতে হলে তাদের’কে দিতে হয় ৩-৫ হাজার টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশী। মাঝে মাঝেই পোষ্ট পাবেন এরকম ‘অমুকে বাটপার। বিশ্বাস করবেন না’। 

বেশীর ভাগ মানুষ গুজব আর এইসব ভুঁইফোর দালাল চক্রের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। হয়তো সেটা তারা বুঝেও না। 

ভাবতেছি আমার কি কোটিপতি হওয়া হবে না আর !?!

তবে আপনি যাই করেন নিজের বুদ্ধিতে করেন / করবেন এটাই আশা করি। 

সাকিব আল হাসান এর খবর 

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।