ফাইনাল আউটিং

গতকাল পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ফাইনাল আউটিং এর সময় ২টা বড় ভুল আর ছোটখাট অসংখ্য ভুল করেছিলাম। প্রথম ভুল ছিলো বৃষ্টি দিনের প্রিকশন হিসাবে মোটামুটি সবই নিয়েছিলাম, কেবল লেন্স থেকে বৃষ্টির পানি মোছার জন্য কিছুই নেই নাই। পরে নিজের শার্ট আর সাবেরা আপার ওড়না দিয়ে এই কাজটা করতে হয়েছে। পরে অবশ্য লুনা একটা লেন্স পেপার দিয়ে সাহায্য করেছিলো। দ্বিতীয়ত লেন্সের সাইজের কোন ইউভি ফিল্টার ছিলো না বলে সাথে নিয়েছিলাম এনডি ফিল্টার। কিন্তু সেটাও লাগিয়ে নিয়ে যাই নাই। বাইরে বৃষ্টির মধ্যে সেই এনডি ফিল্টার লাগানোর সময় ২/১ ফোটা বৃষ্টির পানি মনে হয় ভিতরে রয়ে গিয়েছিলো। সেটাই পরে ছবির কোয়ালিটি ভালই খারাপ করে দিয়েছিলো। পানির ফোটা বাস্প হয়ে ছবিগুলো কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছিলো।
 
দুপুরের বিরতির সময় বাবু ভাই ছবি দেখে বললেন আবার গিয়ে ছবি তুলে নিয়ে আসেন। আমি যাব দেখে মিলি আপাও সাথে যেতে চাইলেন। কিন্তু ঘাটে পৌছে উনি আর ফেরিতে উঠতে চাইলেন না, তার নাকি ভয় লাগে। অতঃপর একা একাই রওনা হলাম। অবশ্য ফেরিতে উঠার পর বোরহান ভাই আর তার পরিবার, শিরিন আপা সহ আরো অনেকের সাথে দেখা হলো। ফিরতি ফেরিতে জাহাঙ্গীর ভাই সহ পুরো একটা দলের দেখা পেলাম।
এখন ছবি কপি সময় দেখলাম খূব ভাল কোন ছবিই নাই। ৪৭৮ টা ছবির মধ্যে খূব বেশী হলে ২টা ছবি হয়তো কারো চোখে পড়তে পারে। একটা হলো উত্তাল পদ্মায় ছোট একটি দেশী নৌকা আর দ্বিতীয় ছবি হলো বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করা এক বালকের ছবি। বালকের চোখে রিফ্লেকশন দেখা যাচ্ছে।
 
তবে একটা জিনিস পরিস্কার যে আমি এরকম পরিস্থিতি মানে under pressure কোন কাজই ভালমতো করতে পারি না। ভজঘট বেঁধে যায়।
এখন অপেক্ষা …
ছবি : জুন ১৫, ২০২৬ তারিখে তোলা ছবি
(এক্সিবিশনের আগে ছবি দেয়া নিষেধ, তাই এখন কোন ছবি দিচ্ছি না)

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।