হালান্ড এবং

ঘটনা ১৯৮৯ সালের। ষ্টকহোমের কোন এক বাসষ্টপ। বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। লাইনে আমার আগে ১২/১৩ জন। হঠাৎ চোখ গেলো সাদা ট্রাউজার্স, সাদা কোট পড়া এক সুন্দরীর দিকে। রেগুলার কোট না, একটু ছোট। তার চেহারা দেখতে পারছিলাম না, কেবল পিছনের দিকটাই। যে জিনিসটা বেশী নজর কাড়লো সেটা হলো তার অসম্ভব সুন্দর সোনালী চুল। চুলগুলো বেণী করে পেঁচিয়ে খোঁপার মতো করা হয়েছে। খোঁপার মধ্যে চমৎকার একটা কাঁটা গুজে দেয়া। অপেক্ষাকৃত ছোট একটা হ্যাট মাথায়, একটু বাঁকা করে বসানো। আর হ্যাটের একপাশে একটা পালক। এতোটুকু দেখেই আমি তো ফিদা।
কয়েকবারই বামে-ডানে সরে চেহারা দেখার চেষ্টা করলাম। আমি যতবারই সরি, সেই মেয়েও দেখি সরে যায়। আমার আর চেহারা দেখা হয় না।
 
যাই হোক বাস আসলো। সবাই এক এক করে বাসে উঠা শুরু করলো। কেউ ড্রাইভারের কাছ থেকে টিকেট নিচ্ছে, বেশীরভাগই মাসিক টিকেট দেখাচ্ছে। আমি যখন পাদানিতে পা রাখলাম সেই সুন্দরী মেয়ে টিকেট নিয়ে / দেখিয়ে ঘুরলো। মনে হলো এক যেন এক বালতি বরফ গলা জল আমার মাথায় ঢেলে দিলো।
 
সে ছিলো লালচে দাঁড়িওয়ালা এক ব্যাটাছেলে।
 
(হালান্ডের চুল দেখে মনে পড়লো এই ঘটনা। এরপরে কখনই পিছন দিক থেকে কাউকে দেখে আগে মেয়ে ভাবিনি)

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।