যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ

আমার জন্ম ১৯৭১ এর আগে। যুদ্ধ কিছুটা দেখেছি, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের নির্মম হত্যাকান্ড দেখেছি। যদিও সেসময় অনেক কিছুই বুঝার বয়স ছিলো না। আস্তে ধীরে অনেক কিছুই বুঝতে শিখেছি। কে শত্রু, কি মিত্র বাছ বিচার করতে পারি এখন।

দেশের শাসন ক্ষমতা বেশ কয়েকবারই পরিবর্তিত হয়েছে। তবে এই পালাবদল সব সময় জনগণের ইচ্ছায় হয়নি। কখনও অস্ত্রের জোরে কেড়ে নেয়া হয়েছে ক্ষমতা। কখনও পুতুল শাসক শাসন ক্ষমতা তুলে দিয়েছে অগণতান্ত্রিক পন্থায়। কখনও বা নিজেরাই আয়োজন করেছে প্রহসনের নির্বাচন।

এতো কিছু পরও কিন্তু বাংলাদেশ একটু একটু করে উন্নতি করেছে। নতুন নতুন অবকাঠামো তৈরী হয়েছে, নতুন নতুন কর্ম সংস্থান হয়েছে, গার্মেন্টস সেক্টরে অভাবিত উন্নতি করেছে। এর হাত ধরে আবার নারীর ক্ষমতায়নও হয়েছে। শিক্ষার হার বেড়েছে।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবনতিও হয়েছে। একটা বিষয়ে সবাই একমত হবেন যে দূর্নীতি আমাদের সমাজে আষ্টে-পৃষ্ঠে জেকে বসেছে। যত দিন যাচ্ছে ততো এর ব্যাপকতা বাড়ছে এবং বেড়েই চলেছে। আগে শোনা যেতো দূর্নীতির পরিমান হাজারের ঘরে, লাখ হলে সবাই চোখ কপালে তুলতো। পতিত স্বৈরশাসক নাকি কয়েক শত কোটি টাকার মালিক হয়েছিলো দূর্নীতি করে।

আর এখন ? একজন ঠিকাদারের জ্ঞাত এফডিআর এর পরিমান ১৬৫ কোটি টাকা, অফিসে নগদ পাওয়া যায় ২ কোটি টাকা। ছাত্র-য়ুব নেতারাও নাকি আজকাল কয়েক কোটি টাকার মালিক। মানে সোজা বাংলায় কোটির নিচে কোন কথা নাই।

আর এসব দেখে শুনে সাধারণ জনগণেরও মনে হয় কোটিপতি হওয়ার সাধ জাগে। যে যেখান থেকে পারছে দূর্নীতি করছে। সাধারণ অফিস সহকারীও দূর্নীতি করে অষ্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান কয়েক কোটি ডলার নিয়ে। টেন্ডারে কেনাকাটা থেকে শুরু করে হালে ক্যাসিিনো আর রোহিঙ্গা দের জাতীয় পরিচয় পত্র / পাসপোর্ট নিয়ে যেসব দূর্নীতির খবর আসছে তাতে আশা হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন।

শেষ করি মেসেঞ্জারে পাওয়া একটি কৌতুক দিয়ে
সকালে ৭ হাজার টাকার বালিশে মাথা রেখে ৮৫ হাজার টাকার বই পড়ছিলাম। হঠাৎ মেঘের গুড়গুড় শব্দ শুনে জানালার ৩৭ লাখ টাকা দামের পর্দা সরিয়ে দেখলাম বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যেই লাখ টাকার টিনের চালে দাঁড়কাক, আর আমিতো অবাক ! ইতিমধ্যে বালিশের পাশে রাখা মোবাইল ফোনটি বেজে ওঠলো। ফোন রিসিভ করার পর ওপাশ থেকে বন্ধু বললো, দোস্ত ৪০০ কোটি টাকার স্যাটেলাইটের কল্যাণে বিটিভি এখন ভারতে। একথা শুনে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরে দেখি, আমি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছি আর ডাক্তার আমার হৃদস্পন্দন মাপছেন ১ লাখ ১২ হাজার টাকার হেডকার্ডিয়াক স্টেথোস্কোপ দিয়ে। এটা দেখে আমার ব্লাড পেসার বেড়ে গেলো। তখন জরুরী ভিত্তিতে ভিজিল্যান্স টিম এসে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকার ডিজিটাল ব্লাড পেসার মেশিন দিয়ে রক্তচাপ পরিক্ষা করলেন। মেশিনের দাম শুনে আমি শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় পড়লাম। ডাক্তার দ্রুত ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট এনে মাস্ক মুখে লাগিয়ে দিলেন। দুইদিন পর ডাক্তার ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার রাবার স্ট্যাম্প মেরে ডাক্তারী সার্টিফিকেট দিয়ে আমাকে হসপিটাল থেকে রিলিজ দিলেন!

দেশের পরিবেশটা এখন বেশ সুন্দর, কোনই হইচই নেই!! তাই শুয়ে শুয়ে ৪.৫ জি গতির ইন্টারনেটে ফেসবুক ব্রাউজ করছি – আর লুটপাটের খবর পড়ছি !!!”

ভাল থাকবেন।

Image by 3D Animation Production Company from Pixabay

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।