রামেন নুডলস

TLC টিভি’তে কিছুদিন আগে একটা প্রোগ্রাম দেখছিলাম। সঞ্চালক প্রতি পর্বেই আমেরিকার বিভিন্ন ষ্টেটের কিছু খাবারের দোকান / রেস্তরা খূজে বের করেন যেগুলি সাধারণত চোখের আড়ালেই থাকে। বাইরে দিয়ে কোন সাইনবোর্ড নাই, নাই কতেমন কোন মার্কিং যা দেখে কেউ বুঝতে পারবে এখানে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এদের কাষ্টমার বেস হয়তো ছোট, কিন্তু এইসব কাষ্টমারই নতুন কাষ্টমার নিয়ে আসেন। এরকমই এক প্রোগ্রামে দেখেছিলাম জাপানিজ রামেন নুডলসের এক রেস্তরা। বাইরে দিয়ে কোন লেখা নেই, ভিতরে জানালাগুলোর উপরেও ভারী পর্দা ঝুলছে। বাইরে থেকেউ বুঝবেই না এটা একটা রেস্তরা। শেফ একজন আমেরিকান এবং তিনি অনেকদিন জাপানে ছিলেন। সেখানেই একজন মাষ্টার শেফের কাছে এই রামেন নুডলস বানানোর তরিকা শিখে আসেন। তবে আমেরিকায় ফিরে কিছুটা ফিউশন করেই এই নুডলস তিনি পরিবেশন করছেন তার খদ্দেরদের কাছে।

এই রামেন নুডলস তৈরীর প্রক্রিয়া কিছুটা দেখানো হয়েছিলো। নুডলস এর মূল স্বাদ আসলে ছিলো এর স্যুপ এর মধ্যে যা তৈরী করতে সময় লাগে প্রায় ১৫ ঘন্টা। এরপর নুডলস তৈরী করে তার সাথে আরো কয়েকটি পদ যোগ করে, উপরে একটি ডিম হাফ বয়েল করে কেটে বসিয়ে দেন। সবশেষে ঢেলে দেন সেই স্যুপ। যারা খাচ্ছিলেন তারা খূবই প্রশংসা করলেন এই রামেন নুডলসের।

আমি অবশ্য এই এপিসোডটি দেখার আগে রামেন নুডলস সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। গুগল আর ইউটিউবে খোঁজ করতে গিয়ে দেখি এই জিনিস বাংলাদেশে পাওয়া যায়। বঙ্গ ললনারা বৃন্দ সেই প্যাকেটজাত রামেন নুডলস তৈরী করে আহা উহু করে লোল ফেলতে ফেলতে সেই রামেন নুডলস খাওয়ার দৃশ্য ইউটিউবে তুলে দিয়েছেন। গুগল জানালো দারাজ, চালডাল সহ ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ আর গ্রুপ এইসব প্যাকেটজাত রামেন নুডলস বিক্রি করছে।। দাম ও খূব বেশী না, ৮০-৯০ টাকার মধ্যেই দাম। তবে এগুলো সব কোরিয়ান। এদের মূল বৈশিষ্ট হলো ঝাঁল।

আমি দারাজে গোটা তিনেক কোরিয়ান 2x স্পাইসি নুডলস অর্ডার করেছিলাম। ঝাঁলের মাত্রার দিক থেকে কিছু আছে 4x, তবে তেমন কোন কিছু লোকাল অনলাইন শপে পেলাম না। গতকাল এক প্যাকেট রামেন নুডলস ট্রাই করলাম। ঝাঁল ছাড়া আর কোন টেষ্ট পাওয়া গেলো না। তবে ইউটিউবে একটা ভিডিও পেলাম, যেটাতে একটু অন্য রকম করে এই স্পাইসি নুডলস রান্না করা হয়েছিলো। সেটি দেখে অবশ্য মনে হচ্ছিলো খেতে দারুণ হবে। ভবিষ্যতে এভাবেই স্পাইসি নুডলস খাওয়ার ইচ্ছা রাখি। নিচে সেই ভিডিও’টি দিয়ে দিলাম।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।