০২-০১-২৩

আজ বহুদিন পর উত্তরা থেকে বের হলাম। গত ২ বছরে উত্তরার বাইরে একেবারেই যাওয়া হয় নাই। প্রথমত আব্বা-আম্মা দু’জনেই অসুস্থ্য ছিলেন। বয়সের কারণে তাদের করোনার টিকা দেয়া হয় নাই। তাই আমি এবং বাসার সবাই বেশ সতর্ক ছিলাম। যাতে আমাদের মাধ্যমে তারা করোনায় আক্রান্ত না হন। সে কারণেই উত্তরার বাইরে যাওয়া বন্ধ করেছিলাম। আম্মা মারা যাওয়ার পর আব্বা বেশ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে খাওয়াতে হলো এনজি টিউব দিয়ে এবং সেটা অব্যাহত ছিলো মৃত্যু পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২ ঘন্টা পর পর ১০০ এমএল তরল খাবার, সাথে ৫০ এমএল পানি – এই হলো খাবার। ২ ঘন্টা পর পর খাওয়াতে হয় বলে দুরে যাওয়ার সূযোগ খূব কম ছিলো। যদিও বাসায় বোন ছিলো। কিন্তু বোন পক্ষাঘাতগ্রস্থ আম্মাকে ৩৮ বছর দেখা শোনা করেছিলো বলে ওকে একটু রিলিফ দিতে চাচ্ছিলাম। খাওয়ানো ছাড়াও প্রতিদিন ৩ বেলা ডায়পার চেঞ্জ করা, ৩ বার ঔষধ খাওয়াতে হতো। আরো কিছু টুকটাক কাজ তো ছিলোই। তারপর ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ, বিভিন্ন টেষ্ট করার ব্যবস্থা করতে হতো। 

যাই হোক আজ বের হয়ে বাসে করে গেলাম ফার্মগেট। চিন্তায় ছিলাম কত সময় লাগতে পারে সে নিয়ে। ৮:২৫ এ রাজলক্ষী থেকে বাসে উঠলাম। ফার্মগেটে পৌছালাম ৯:৩৫ এর দিকে। শেষবার বাস ভাড়া দিয়েছিলাম ২২ টাকা কিংবা ২৫ টাকা। আজ দিলাম ৩৫ টাকা। 

রাস্তায় চোখে পড়লো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। অনেকগুলোর কাজ বেশ অনেকখনি এগিয়েছে। কোনটার হয়তো মূল কাঠামো তৈরী হয়ে গেছে। সাইডের ওয়াল নির্মাণ চলছে। তবে প্রায় সবগুলোর ramp তৈরী বাকি। 

ফার্মগেটে পৌছে একটা সমস্যায় পড়লাম। রাস্তা পার হওয়ার জন্য কোন ফুটওভার ব্রিজ পেলাম না। বেশীর ভাগ ফুটওভার ব্রিজ খুলে ফেলা হয়েছে মেট্রোরেলের কাজের জন্য। একটা যাও বা আছে সেটার প্রবেশ মুখে বাঁশ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। অতঃপর অন্যান্যদের সথে হেটেই রাস্তা পার হলাম। 

যাওয়া আসার পথে বেশ কিছু নতুন স্থাপনা চোখে পড়লো। তার মধ্যে পুরাতন এয়ারপোর্টের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এভিয়েশন এন্ড এরোস্পেস ইউনিভার্সিটি। এটা আগে দেখেছি কিনা মনে পড়লো না। 

যখন বাসায় ফিরছি ৩-৫ নাম্বার সেক্টরের লেক এর পাশে দেখলাম এক বৃদ্ধা মহিলা তার কাঝের বুয়া নিয়ে যাচ্ছেন। নুয়ার কাছে বেশ কয়েকটা কম্বল। বিতরণের জন্যই এনেছিলেন। কিন্তু মসজিদের কাছে যেসব ফকির ভিক্ষা করছিলো তারা মূহুর্তের মধ্যেই বুয়ার কাছ থেকে সেগুলি টেনে টেনে নিয়ে গেলো। একজনকে দেখলাম এক কম্বল লুকিয়ে আবার আরেকটা নেয়া যায় কিনা সেই চেষ্টা করছে। এটা লিখতে যত সময় লাগলো তার চাইতেও কম সময়ে কম্বলগুলি নেয়া শেষ। 

নতুন বছর শুরু হলো। আব্বা-আম্মাহীন জীবন আবারও এগিয়ে নিতে হবে। কি করবো এখনও ঠিক করি নাই। আব্বার একাউন্টস / টাকাপয়সা নিয়ে বেশ কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো আগে শেষ করি। তারপর দেখা যাবে। 

ভাল থাকুন নিরন্তর।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।