১৯৮৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৮৬ ছিল ফুটবল ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর আসর, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল মেক্সিকো’তে। এই বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিল অন্যতম শক্তিশালী ও জনপ্রিয় দল, যারা তাদের আক্রমণাত্মক ও শিল্পসমৃদ্ধ ফুটবলের জন্য সমর্থকদের হৃদয় জয় করেছিল।
১৯৮৬ সালের ব্রাজিল দলে ছিলেন বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সক্রেটিস, যিনি ছিলেন একাধারে দক্ষ মিডফিল্ডার ও অনন্য ব্যক্তিত্ব। এছাড়া দলে ছিলেন জিকো, যাকে অনেকেই ব্রাজিলের অন্যতম সেরা প্লেমেকার মনে করেন। আক্রমণভাগে ছিলেন কারেকা, যিনি টুর্নামেন্টে দলের প্রধান গোলদাতা ছিলেন। আরও ছিলেন জুনিয়র এবং জোশিমার, যারা রক্ষণ ও আক্রমণ দুই দিকেই অবদান রেখেছিলেন।
গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল দারুণ পারফরম্যান্স করে। তারা সবগুলো ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং তাদের খেলায় ছিল গতি, কৌশল ও দৃষ্টিনন্দন পাসিং। নকআউট পর্বে তারা পোল্যান্ড’কে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয় ফ্রান্স। এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচে Zico একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ব্রাজিল পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
যদিও ব্রাজিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারেনি, তবুও তাদের খেলা ছিল অত্যন্ত নান্দনিক ও স্মরণীয়। এই দলটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে “সুন্দর ফুটবল”-এর এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে আজও আলোচিত।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের লাইনআপ
| পজিশন | জার্সি নম্বর ও খেলোয়াড় |
| গোলরক্ষক | ১. কার্লোস গালো, ১২. পাওলো ভিতোর, ২২. এমারসন লিয়াও |
| ডিফেন্ডার | ২. এদসন বোয়ারো, ৩. অস্কার বের্নার্দি, ৪. এদিনিও (অধিনায়ক), ৬. জুনিয়র, ১৩. জোসিমার, ১৪. হুলিও সিজার, ১৬. মাউরো গালভাও, ১৭. ব্রাঙ্কো |
| মিডফিল্ডার | ৫. ফ্যালকাও, ৮. কাসাগ্রান্তে, ১০. জিকো, ১৫. আলেমাও, ১৮. সক্রেটিস, ১৯. এলজো, ২১. ভালদো |
| ফরোয়ার্ড | ৭. মুলার, ৯. কারেকা, ১১. এদিভালদো, ২০. সিলাস |
আমার দেখা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ব্রাজিল দল।
ছবি কৃতজ্ঞতা : উইকিপিডিয়া
