আজিজ

ইউটিউব, ফেসবুক বা টিকটকে দু’জন ছোটখাট ব্যক্তি’র ভিডিও প্রায়ই দেখি। তাদের একজন সৌদি আরবের জনপ্রিয় এবং অত্যন্ত আলোচিত সেই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আজিজ আল আহমাদ (যিনি ইন্টারনেট দুনিয়ায় “আজিজ আল আসমার” নামেও পরিচিত ছিলেন)।

আজিজ আল আহমাদ ১৯৯৫ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর থেকেই তিনি একটি বিরল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন, যা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে তাঁর স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধিকে থামিয়ে দেয়। এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তাঁর চেহারা এবং শারীরিক গঠন আজীবন এক শিশুর মতোই রয়ে গিয়েছিল।

শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আজিজ নিজের জীবনকে লুকিয়ে রাখেননি, বরং নিজের হাসিখুশি স্বভাব ও রসবোধ দিয়ে কোটি মানুষের মন জয় করেছিলেন। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

  • কনটেন্ট স্টাইল: তাঁর ভিডিওগুলো ছিল মূলত কমেডি, প্র্যাঙ্ক এবং লাইফস্টাইল কেন্দ্রিক। বিলাসবহুল গাড়ি চালানো, মজাদার নাচ, এবং বিভিন্ন বন্ধুদের সাথে করা তাঁর মজার মজার ভিডিওগুলো বিশ্বজুড়ে (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে) বিপুল সাড়া ফেলে।

  • ফলোয়ার্স: মৃত্যুর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা লক্ষ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মানুষ তাঁকে তাঁর ইতিবাচক মনোভাব এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসার জন্য পছন্দ করত। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী এবং ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবেও কাজ করেছেন।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার সময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নেটিজেনদের বেশ আগ্রহ ছিল। তিনি বিবাহিত ছিলেন (তার অনেক ভিডিও’তে মারিয়াম নামে একজন লেবানিজ মহিলাকে দেখা যায়, তিনিই আজিজ এর স্ত্রী) এবং তাঁর একটি পুত্রসন্তান রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা যায়। প্রায়শই ভিডিওতে তাঁকে একজন ধনী এবং সুখী মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে ছিল স্ক্রিপ্টেড এন্টারটেইনমেন্ট, তবে দর্শক তা ভীষণ উপভোগ করত।

আজীবন জটিল রোগে ভুগে অবশেষে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি মাত্র ২৭ বছর বয়সে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজ আল আহমাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সহ-কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইয়াযান আল-আসমার তাঁর মৃত্যুর খবরটি ভক্তদের নিশ্চিত করেন।

তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে তাঁর কোটি ভক্ত এবং সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে কীভাবে হাসিখুশি থাকা যায়, আজিজ আল আহমাদ তাঁর স্বল্প জীবনে তারই এক অনন্য উদাহরণ রেখে গেছেন।

ছবি : ইন্টারনেট

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।