হঠাৎ করেই দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি যেন অস্বাভাবিকভাবে জটিল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই সবাই মোটামুটি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মনোযোগী ছিল। এমন এক সময়ে ঘটে গেল একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। যদিও বাস্তবতা হলো—আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিনগুলো থেকেই দেশে হত্যার এক ভয়ংকর ধারাবাহিকতা চলছিল। সরকার পতনের পর অনেকেই ভেবেছিল, হয়তো এবার সেই শবমিছিল থামবে, সহিংস রাজনীতির অবসান ঘটবে। কিন্তু আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হলো। দেশজুড়ে আবারও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, মব তৈরি করে হামলা ও ভাঙচুর, চাঁদাবাজি—সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকলো।
তবুও সম্ভাব্য নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর মানুষের মনে একটা ক্ষীণ আশার আলো জ্বলে উঠেছিল। ধারণা ছিল, অন্তত নির্বাচন শেষ হলে হয়তো দেশ কিছুটা হলেও স্থিতিশীলতার পথে ফিরবে।
কিন্তু তফসিল ঘোষণার পরপরই হাদীর ওপর হামলার ঘটনা সেই আশাকে বড় ধাক্কা দেয়। এরপর গতকাল রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদীর মৃত্যুসংবাদ যেন আগুনে ঘৃতাহুতি দিল। রাতের মধ্যেই কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনেও চালানো হয় হামলা, ভাঙচুর ও আগুন। বলা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে—শুধু ভবনের কাঠামো কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে।
ভেবেছিলাম, এই নির্বাচন হয়তো দেশকে আবার স্থিতিশীলতার পথে ফেরার একটি সুযোগ এনে দেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে গভীর উদ্বেগ আর অজানা আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। আমার প্রিয় মাতৃভূমি কি তবে ধীরে ধীরে পাকিস্তানের মতোই একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে—এই প্রশ্ন আজ বারবার মনে ফিরে আসছে।
ফটো ক্রেডিট : চ্যাটজিপিটি

ফেসবুক মন্তব্য