কয়েকদিন আগে ইউটিউবে নিউইয়র্ক শহর নিয়ে একটি ভিডিও দেখছিলাম। শহরটি এমনিতেই ব্যয়বহুল – বিশেষ করে বাসাভাড়া। তবে এর মধ্যেও একটি জায়গা আছে যেখানে ভাড়া যেন আকাশছোঁয়া – মাসে প্রায় ৬ হাজার ডলার। জায়গাটির নাম ওয়েস্ট ভিলেজ।
নিউইয়র্ক মানেই যেখানে আকাশছোঁয়া দালানকোঠা কল্পনায় ভেসে ওঠে, ওয়েস্ট ভিলেজ ঠিক তার উল্টো। এখানে নেই উঁচু উঁচু বিল্ডিং, বরং ২-৩ তলা ছোট ছোট ঘরবাড়ি, সরু ও প্যাঁচানো রাস্তা, আর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ক্যাফে ও রেস্টুরেন্ট – সব মিলিয়ে যেন ইউরোপের কোনো পুরোনো গ্রামের আবহ। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ডাচ ও পরবর্তী ব্রিটিশ উপনিবেশ আমল থেকেই এই এলাকার এমন গড়ন। ১৮১১ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এই অংশটিকে তার স্বকীয় রূপেই রাখা হবে। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের একটি আইনের মাধ্যমে এর বহিরাঙ্গনে কোনো পরিবর্তন কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে মজার বিষয় হলো – বাইরের চেহারা অপরিবর্তিত থাকলেও ভেতরের দিকটা একেবারেই আধুনিক। পুরোনো স্থাপত্যের আবরণে লুকিয়ে আছে আধুনিক জীবনের সব সুবিধা।
এই গল্প বলার পেছনে কারণ আছে। গত শুক্রবার ঢাকার শাঁখারি বাজারে গিয়েছিলাম ছবি তুলতে। সেখানে এক ভদ্রলোক আমাদের পরিচয় জানতে চাইলেন – কোথা থেকে এসেছি, কেন ছবি তুলছি। কথা বলতে বলতেই আক্ষেপের সুরে জানালেন, তাদের বাড়িটি প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। এখন আর বসবাসের উপযোগী নয়, অথচ ঐতিহ্য সংরক্ষণের কারণে তারা কিছু পরিবর্তনও করতে পারছেন না। যেন আটকে আছেন এক অদ্ভুত সংকটে – না পারছেন বাড়ি ছাড়তে, না পারছেন সেটিকে বাসযোগ্য করতে।
পরে আমরা অনুমতি নিয়ে বাড়িটির ভেতরটা ঘুরে দেখলাম। যারা থাকেন, তারা মূলত একতলাতেই থাকেন। দোতলায় একজন শরিক আছেন, আর তিন-চার তলা প্রায় পরিত্যক্ত। সিঁড়িগুলো এতটাই সরু আর খাড়া যে দু’জন মানুষ একসাথে ওঠানামা করাও কঠিন। কক্ষগুলো ছোট, বাতাস চলাচলেরও খুব একটা সুযোগ নেই – সব মিলিয়ে আধুনিক জীবনের সঙ্গে যেন বেমানান।
ফিরে আসার পথে মনে হচ্ছিল – নিউইয়র্কের ওয়েস্ট ভিলেজের মতো যদি শাঁখারি বাজারের ভবনগুলোতেও বাহ্যিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে ভেতরের অংশ আধুনিকভাবে পুনর্নির্মাণ করা যেত, তাহলে হয়তো অনেক পরিবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেত। ঐতিহ্যও থাকত, মানুষের জীবনও হতো স্বস্তির।
ইমেজ ক্রেডিট : ChatGPT

ফেসবুক মন্তব্য