শিকড়

পুরো আফ্রিকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের দীর্ঘ ইতিহাস। প্রায় দুইশ বছর আগে – কেউ স্বেচ্ছায়, কেউবা বাধ্য হয়ে পাড়ি জমিয়েছিল সেই মহাদেশে। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু শেকড়ের টানটা যেন অটুট রয়ে গেছে। এখনো তাদের অনেকের হাতে ভারতীয় পাসপোর্ট, আর কথা বলতে গেলেই সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্রশ্ন আসে হিন্দি বলতে পারে কি না।

আফ্রিকার কোন এক দেশের পদস্থ একজন সরকারী কর্মকতার কথা শুনলাম। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত, পঞ্চম প্রজন্ম। অথচ অনর্গল হিন্দিতে কথা বলেন, নিজের ঐতিহ্যকে গর্বের সাথে ধারণ করেন। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি পারি সেইভাবে নিজেদের ধরে রাখতে ?

আমাদের গল্পটা যেন ঠিক উল্টো। আমরা দেশ ছাড়ি, আর ধীরে ধীরে দেশটাকেও ছেড়ে দিই। আজ বিদেশে পা রাখি, কালই আমাদের সন্তানের মুখে বাংলা হারিয়ে যায়। অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছেই ভাষাটা আর স্বাভাবিক থাকে না। তৃতীয় প্রজন্মে গিয়ে পরিচয়টাই ঝাপসা হয়ে যায়, না থাকে নাগরিকত্বের বন্ধন, না থাকে ভাষার টান।

কেন এমন হয় ? কেন আমরা এত দ্রুত শিকড় ভুলে যাই ?

দেখুন, পৃথিবীর অনেক জাতিই তাদের উৎসকে আঁকড়ে ধরে রাখে। এমনকি যাদের পূর্বপুরুষ শত বছর আগে দেশ ছেড়েছে, তারাও সুযোগ পেলে ফিরে যায়, দেশের পাশে দাঁড়ায়। তারা জন্মভূমি না দেখেও তার জন্য আত্মত্যাগের কথা ভাবে।

আর আমরা? অনেক সময় প্রথম প্রজন্ম হয়েও দূরে সরে যাই। দেশে কোনো সংকট এলে, যুদ্ধ লাগলে, ফিরে যাওয়ার টিকিট ক্যান্সেল করে দিই। মনে মনে বলি, “আগে সব ঠিক হোক, তারপর যাবো।”

হয়তো সমস্যা আমাদের ভেতরেই – আমরা দূরে যাই, কিন্তু দূরত্বটা শুধু ভৌগোলিক থাকে না, ধীরে ধীরে মানসিকও হয়ে যায়।

শিকড় ভুলে গেলে গাছ টিকে থাকে না। মানুষও না।

ইমেজ ক্রেডিট : ChatGPT

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।