গরীবের ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি (২)

আপডেট : গত পর্বের পোষ্টে একজন পাঠকের প্রশ্নের পরিপ্রক্ষেতিতে কিছু আপডেট দেয়া দরকার বলে মনে হচ্ছে। মানিফা নাজ ফাতমা প্রশ্ন করেছিলেন এই সিস্টেমে লেন্স নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। যেহেতু লেন্সের ব্যাক সাইড সম্পূর্ণ অনাবৃত থাকছে তাই ধূলা বালি ঢোকার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। তাই এভাবে ছবি তোলার পর নিয়মিত ব্লোয়ার লেন্স পরিস্কার করা জরুরী।

আলি এক্সপ্রেসে ভিন্ন একটি জিনিস খূঁজতে গিয়ে আবিস্কার করলাম রিভার্স রিং এর সাথে বর্তমানে আরো একটি রিং এবং ইউভি ফিল্টার পাওয়া যাচ্ছে। এই রিং লেন্সের অনাবৃত অংশে লাগিয়ে ইউভি ফিল্টারটি লাগিয়ে নিলে ধূলাবালি ঢোকার সম্ভাবনাও আর থাকে না।

বর্তমান যে সব লেন্সে এপারচার রিং নেই এবং শুধূ মাত্র ক্যামেরা বডি থেকে এপারচার কন্ট্রোল করা যায়, সেই সব লেন্স ক্যামেরা বডি থেকে খুললে সবচেয়ে ছোট এপরচারে সেট হয়। তখন ভিউ ফাইন্ডার দিয়ে কিছুই আর দেখা যায় না। নাইকন G লেন্সগুলোর পিছনে একটা লিভার থাকে। যেটা দিয়ে এপারচার কন্ট্রোল করে। এই লিভার টেনে এপারচার বড় করে লিভারের পাশে কাগজের টুকরা বা ম্যাচের কাঠি দিয়ে আটকে দিলে এপারচার বড়ই থাকে। তখন ছবি তুলতে সূবিধা হয়।

এ প্রসঙ্গে আরো একটি তথ্য দেয়া দরকার। এই রিভার্স রিং ব্যবহারে যেহেতু ক্যামেরার সাথে লেন্সের কোন সংযোগ থাকছে না, কেবল মাত্র লেন্সের সামনে অংশটি রিভার্স রিং এর সাথে যুক্ত হচ্ছে – আপনি যে কোন ব্র্যান্ডের লেন্সই এই কাজে ব্যবহার করতে পারেন। কেবল লেন্সের ফিল্টার থ্রেড আর রিভার্স রিং এর ফিল্টার থ্রেড এক হলেই হলো। আমি নাইকন ডি৩০০০ ক্যামেরায় প্রথম এই রিভার্স রিং ব্যবহার করেছিলাম এক বড় ভাই এর কাছ থেকে পাওয়া মিনোল্টা ব্র্যান্ডের ৩৫ মিমি লেন্স দিয়ে।


আপনার যদি ২টি প্রাইম লেন্স (যে কোন লেন্স হলেই হয়, প্রাইম লেন্স হলে বেশী ভাল হয়) থাকে তবে আপনি আরো একটি রিং ব্যবহার করতে পারেন। যেটিকে বলে মেল টু মেল রিং। প্রথমে একটি প্রাইম লেন্স ক্যামেরায় লাগিয়ে (যে ভাবে সাধারণত লাগানো হয়) এই রিং লেন্সের সামনে লাগানো হয় (যেভাবে ফিল্টার লাগানো হয়), এরপর অন্য প্রাইম লেন্সটি উল্টা করে সেই রিং এর সাথে লাগানো হয়। এক্ষেত্রে প্রথম লেন্সটি হতে হবে আপনার ক্যামেরা ব্র্যান্ডের। তবে দ্বিতীয় লেন্সটি যে কোন ব্র্যান্ডের হলেই হবে, কেবল ফিল্টার থ্রেড মিললেই হলো।

আজ এপর্যন্তই। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টস এ করতে পারেন অথবা আমার ফেসবুক পেজে। যথাসাধ্য উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো।

হ্যাপি ক্লিকিং

রিভার্স রিং কিট (প্রটেক্টিভ রিং, ইউভি ফিল্টার এবং লেন্স ক্যাপ সহ)
মেল টু মেল রিং
ফেসবুক পেজ
ছবি ক্রেডিট : আলি এক্সপ্রেস

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।