জীবন

গতকাল আমাদের এক প্রতিবেশী নিঃসঙ্গ অবস্থায় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। শেষ সময়ে পাশে ছিলেন শুধু বাড়ির কেয়ারটেকার আর গৃহকর্মী। জীবনসঙ্গিনী কয়েক বছর আগেই চলে গেছেন। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে, তারা এখন নিজেদের সংসারে ব্যস্ত। একমাত্র ছেলে প্রবাসে।

এই বাড়িটিকে ঘিরে বহুদিন আগের কিছু স্মৃতি আজ আবার মনে পড়ছে। একদিন হঠাৎ করে এই বাড়িতে পুলিশের আনাগোনা দেখেছিলাম। কারণ ছিল সেই ছেলেই। শোনা গিয়েছিল, বাড়িটি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য বাবা-মায়ের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিল সে। শেষ পর্যন্ত বাবা-মা নাকি বাধ্য হয়েই বাড়িটি ছেলের নামে লিখে দেন, দুই মেয়েকে বাদ দিয়ে।

তবুও মেয়েরা তাদের দায়িত্ব ভুলে যায়নি। যতটা সম্ভব, তারা বাবা-মায়ের খোঁজ-খবর নিয়েছে, পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। আর ছেলেকে ঘিরে লোকমুখে শোনা যায় নানা গল্প, যেগুলোর সবটুকু হয়তো সত্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন জাগায় অনেক।

একবার আমাদের এক আত্মীয় এই বাড়ির একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে এসেছিলেন। ফ্ল্যাট পছন্দও হয়েছিল। কিন্তু পরে এই ভদ্রলোক নিজেই আমার দুলাভাইকে ডেকে অনুরোধ করেছিলেন এই ফ্ল্যাট যেন ভাড়া না নেয়। ইঙ্গিতটা ছিল স্পষ্ট, যদিও কথাগুলো ছিল অস্পষ্ট।

আজ সেই মানুষটি নিথর হয়ে শুয়ে আছেন একটি ফ্রিজিং ভ্যানে। অপেক্ষা শুধু ছেলের জন্য। সে আসবে, তারপর দাফন সম্পন্ন হবে।

জীবনের শেষ দৃশ্যটা যেন এক নিঃশব্দ প্রশ্ন রেখে যায় – সম্পদ, সন্তান আর সম্পর্ক, কোন কিছুতেই আসলে কিছু যায় আসে না।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।