পাটুরিয়া ফেরিঘাট

পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাওয়ার ইচ্ছা অনেকদিন ধরেই। যাচ্ছি যাব করে যাওয়া হচ্ছে না। আপাতত তাই পরিকল্পনা সাজাই কি কি ধরণের ছবি তুলতে পারি সেখানে গেলে।

মানুষ ও জীবন (Human Interest)

  • ফেরির ডেকে অপেক্ষারত যাত্রীদের মুখের অভিব্যক্তি

  • মাথায় পণ্য নিয়ে হেঁটে যাওয়া কুলি বা শ্রমিক

  • ট্রাক ড্রাইভারদের ফেরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা — ক্লান্তি, ঘুম, তাস খেলা

  • চায়ের দোকানে আড্ডারত মানুষ

  • বাচ্চাদের নদীর পাড়ে খেলা

নৌকা ও ফেরি (Vessel Photography)

  • ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর মুহূর্ত — অ্যাকশন শট

  • পুরনো জরাজীর্ণ ফেরির জং ধরা গায়ের টেক্সচার (Macro/Detail)

  • ছোট ছোট ট্রলার ও নৌকার সারি

  • দুটো ফেরির মাঝে পদ্মার জল ও ফেনা

আলো ও পরিবেশ (Light & Atmosphere)

  • ভোরের আলো — কুয়াশায় ঢাকা পদ্মা এবং ফেরির সিলুয়েট

  • সূর্যাস্ত — পদ্মার বুকে সোনালি রঙের প্রতিফলন

  • বর্ষায় ঘোলা পানি আর ঢেউয়ের ছবি

  • ঝড়ের আগে আকাশের নাটকীয় মেঘ

ব্যবসা ও জীবিকা (Street Economy)

  • ঘাটের পাড়ে ভাসমান দোকানদার — মুড়ি, চানাচুর, আখের রস

  • মাছ বিক্রির দৃশ্য

  • ঘাটের মুটে বা হেলপারদের কাজের ছবি

  • ফেরির উপর অস্থায়ী চায়ের দোকান

ল্যান্ডস্কেপ ও পরিবেশ (Landscape)

  • বিস্তীর্ণ পদ্মা নদীর প্যানোরামা শট

  • ফেরির ছাদ থেকে নদীর দুই তীরের দৃশ্য

  • চরের বালুচরে বসা পাখির ঝাঁক

  • সন্ধ্যায় ঘাটের বাতির প্রতিফলন পানিতে

কিছু ব্যবহারিক টিপস

  • সময় – ভোর ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে গেলে সেরা আলো ও কম ভিড় 

  • পারমিশন – মানুষের কাছাকাছি গিয়ে ছবি তোলার আগে হাসিমুখে একটু কথা বলতে হবে, অনুমতি নিতে হবে

  • লেন্স – ৩৫mm বা ৫০mm স্ট্রিটের জন্য, টেলিলেন্স দূর থেকে ক্যানডিড মোমেন্ট ধরতে

  • বর্ষাকাল – জুলাই-আগস্টে পদ্মা পরিপূর্ণ থাকে, পানির রং ও ঢেউ অনেক বেশি ড্রামাটিক হবে। তবে চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে

ছবি : চ্যাটজিপিটি

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।