হামের প্রাদূর্ভাব

হামের পুনরুত্থান: কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত এক মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে ১৬৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে একটি প্রাদুর্ভাব হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণসমূহ

১. টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাত: কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে সারা বিশ্বেই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছিল।

২. টিকাদানের হার কমে যাওয়া: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বজুড়ে টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে হামের পুনরুত্থান ঘটছে। এমনকি ‘দ্য ল্যানসেট’ জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

৩. টিকাবিরোধী প্রচারণা: উন্নত দেশগুলোতে (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা) হাম ছড়িয়ে পড়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো টিকাবিরোধী প্রচারণার প্রসার। এই ভুল প্রচারণার ফলে অনেক অভিভাবক শিশুদের টিকা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন, যা সংক্রমণ ছড়াতে সাহায্য করছে।

৪. হাসপাতাল ও আইসোলেশনের সীমাবদ্ধতা: পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং আইসিইউ সুবিধা প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় বর্তমান অবকাঠামো এই প্রাদুর্ভাব সামলাতে চাপের মুখে রয়েছে।

৫. এ ছাড়া বাংলাদেশে ২০২৪ এর সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের নীতিমালা পরিবর্তন করায় যথা সময়ে টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নাই। ফলে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচী মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হয়।

বৈশ্বিক চিত্র

হাম কেবল বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশেই নয়, বরং উন্নত বিশ্বেও মহামারী আকারে ফিরে আসছে। কোভিড পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্থবিরতা এবং টিকা নিয়ে মানুষের সংশয়—সব মিলিয়ে হামের এই ভয়াবহ প্রত্যাবর্তন ঘটছে।

ফটো ক্রেডিট : জেমিনি

ফেসবুক মন্তব্য

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।