বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব : আমাদের যা জানা প্রয়োজন
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ বা প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যাচ্ছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে। সঠিক সময়ে সচেতন না হলে এটি মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
হাম কেন উদ্বেগের কারণ?
হাম কেবল সাধারণ জ্বর বা র্যাশ নয়। এটি বায়ুর মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে নির্গত জলকণার মাধ্যমে এটি সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে। যারা টিকা গ্রহণ করেনি, তাদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ১০০%।
লক্ষণসমূহ চিনে নিন
হামের সংক্রমণ হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়:
-
তীব্র জ্বর এবং শরীর ম্যাজম্যাজ করা।
-
নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শুকনো কাশি।
-
চোখ লাল হওয়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়া।
-
জ্বর শুরুর কয়েকদিন পর মুখগহ্বরে সাদাটে দাগ এবং শরীরে লালচে দানাদার র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া।
প্রতিরোধের উপায়: টিকাই একমাত্র সমাধান
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমআর (MR) টিকা। বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় শিশুদের ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়।
সতর্কতা: যদি আপনার শিশু কোনো কারণে নিয়মিত টিকা মিস করে থাকে, তবে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। একটি টিকা আপনার শিশুকে পঙ্গুত্ব বা অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারে।
আক্রান্ত হলে করণীয়
১. আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আলাদা ঘরে রাখুন। ২. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি, তরল খাবার এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন। ৩. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করাবেন না। ৪. নিয়মিত হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
আমাদের সচেতনতাই পারে শিশুদের একটি নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ উপহার দিতে। গুজব এড়িয়ে চলুন এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
ফটো ক্রেডিট : চ্যাটজিপিটি

ফেসবুক মন্তব্য