মিনামাতা জাপানের কিউশু দ্বীপের এক উপকুলবর্তী গ্রাম। সেখানেই চিসো নামের এক রাসায়নিক কারখানা থেকে বিষাক্ত পারদ বর্জ্য নিস্কাশন করা হচ্ছিলো সাগরে। সেসময় বেশীর ভাগ মানুষ ছিলো জেলে। পানি আর মাছের মাধ্যমে পারদের বিষাক্ততা একসময় সংক্রমিত হলো গ্রামবাসীর মধ্যে। নানা রকম শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে মানুষ দূর্বিসহ জীবন-যাপন করতে থাকে। সেই সময়ে এক জাপানী তরুণী, যার নাম আইলিন ছুটে যায় আমেরিকান আলোকচিত্রী ডব্লিউ ইউজিন স্মিথের কাছে। স্মিথ ছিলেন লাইফ পত্রিকার আলোকচিত্রী। আইলিনের ধারণা ছিলো স্মিথ যদি তাদের এলাকার এই সমস্যার খবর সচিত্রাকারে প্রকাশ করেন, তাহলে হয়তো সেই রাসায়নিক কারখানা পারদ দূষণ বন্ধ করতে বাধ্য হবে।
স্মিথ ছিলেন একগুঁয়ে এবং মদ্যপ, কিন্তু সত্যের প্রতি অবিচল একজন মানুষ। সেই সময় তিনি কিছুটা অর্থকষ্টেও ছিলেন। মিনামাতা গ্রামে তিনি ছবি তোলা শুরু করেন। গ্রামের মানুষ বিভিন্নভাবে তাকে সহায়তা করতে শুরু করু করে। যদিও গ্রামের মানুষ তাদের শারীরিক অক্ষমতার ছবি তোলার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলো না। ছবি তোলার একপর্যায়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে ঘুষ দিতে চায়, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখান করেন। এরপর তারা তার অস্থায়ী ফটো ল্যাবটি পুড়িয়ে দেয়। স্মিথ গ্রামবাসীর সাহায্য নিয়ে আবারও ঘুরে দাড়ান। এবার কারখানা কর্তৃপক্ষ তার উপর গুন্ডা লেলিয়ে দেয়। তারা স্মিথ’কে মারাত্মক ভাবে আহত করে। তার আহত হওয়ার খবরে গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে আসে তাদের এবং সন্তানদের ছবি তুলতে দিতে।
স্মিথের ছবি প্রকাশিত হয়। পারদ বর্জ্য নিস্কাশনের বিরুদ্ধে জনদাবী আরো জোড়ালো হয়। মামলায় হেরে সেই রাসায়নিক কারখানা বাধ্য হয় নিস্কাশন বন্ধ করতে এবং ক্ষতিপুরণ দিতে।

পরিবেশ দূষণ, কর্পোরেট দায়বদ্ধতা এবং সত্য প্রকাশের সংগ্রাম – এই তিনটি বিষয় যখন একসাথে মিলে যায়, তখন সৃষ্টি হয় এক গভীর ও হৃদয়স্পর্শী গল্প। অ্যান্ড্রু লেভিতাস পরিচালিত “মিনামাতা (Minamata)” ঠিক তেমনই একটি চলচ্চিত্র, যা ১৯৭০ এর দশকে জাপানের মিনামাতা শহরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পারদ দূষণের বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত।
এই ছবিতে জনি ডেপ ডব্লিউ ইউজিন স্মিথের চরিত্রে অসামান্য অভিনয় করেছেন। তার অভিনয় দেখে মনে হচ্ছিলো তিনিই আসল স্মিথ। জনি ডেপ ছাড়াও জাপানি শিল্পীদের অভিনয় ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে মিনামি (আইলিন চরিত্রে) এবং হিরোউকি সানাদা (মিৎসুও ইয়ামাজাকি চরিত্রে) তাদের চরিত্রকে গভীরতা দিয়েছেন।
চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দিক হলো দূষণের শিকার মানুষদের জীবনচিত্র। শারীরিক বিকৃতি, অসহায়তা এবং সামাজিক অবহেলা – সবকিছুই অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ছবি কৃতজ্ঞতা : W Eugene Smith / Others
