স্বাস্থ্যসেবা

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার মান কেমন এ প্রশ্ন করলে সবাই মনে হয় হাসবে। কম-বেশী সবাই কোন না কোন ভাবে বাজে সেবা পেয়েছেন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা হলো ডাক্তাররা সাধারণত সেবা ভালই দেন, কিন্তু আনুষঙ্গিক যে সব সেবা থকে সেখানেই বেশী গন্ডগোল হয়। অনেক সময় টাকা খরচ করেও ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। এবছর এপর্যন্ত দুইবার আব্বাকে নিয়ে হাসাপাতালে যেতে হয়েছে। বাসার কাছে সবই বেসরকারী হাসপাতাল বা ক্লিনিক। প্রতিবারই অনেক টাকা বিল হয়েছে। চিকিৎসায় আব্বা আগের তুলনায় ভালও হয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের সার্ভিস নিয়ে কখনই শতকরা ১০০ ভাগ সন্তুষ্ট হতে পারিনি। ডাক্তার সাহেব এবং তার জুনিয়ার ডাক্তারবৃন্দ ভালই সার্ভিস দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের বাকি সব ষ্টাফ বা ম্যানেজমেন্ট কি্ন্তু সেরকম আন্তরিক ছিলেন না। হাসপাতাল থেকে বাসায় আনার আগেই দেখা গেলো আব্বার শরীরের কয়েক জায়গায় বেড সোর হয়ে গেছে। অথচ ডাক্তার সাহেব প্রায় প্রতিদিনই নিয়মিত এয়ার ম্যাট্রেস চালু রাখতে বলেছিলেন। বাসায় আনার পর নিয়মিত পরিস্কার করে এবং ১৭০০ টাকা দামের স্প্রে বেশ কয়েকটা খরচ করার পর সেই বেড সোর ভাল হয়েছিলো। সাথে এয়ার ম্যাট্রেস তো ২৪ ঘন্টাই চলেছে। হাসপাতালের বিলে এয়ার ম্যাট্রেস ১১ বার ব্যবহারের কথা ছিলো। প্রতিবার ৫০০ টাকা হিসেবে ৫৫০০ টাকা বিল করা হয়েছে। কতোক্ষণ করে চালিয়েছে তার কোন উল্লেখ নেই। একটা এয়ার ম্যাট্রেসের দাম ২৫০০-৩৫০০ টাকা, কমেও পেতে পারেন। আর ১১ দিন টানা চালালেও মনে হয় না ৫৫০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসতো। 

কয়েকদিন আগে এক সন্তান সম্ভবা আত্মীয়া অসুস্থ্য অবস্থায় ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) থেকে ঢাকায় এসে ভর্তি হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে ছিলো ৬ মাসের সন্তান সম্ভবা, স্কুলে গিয়ে কোনভাবে পড়ে গিয়েছিলো। তাতে তার ‘পানি’ বের হয়ে গিয়েছিলো। সেখানকার ডাক্তারের পরামর্শে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ডিউটি ডাক্তার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার ব্যবস্থাপত্র দিলেন। সেই রিপোর্ট দেখে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরবর্তী করনীয় ঠিক করবেন। প্রথমে জানানো হলো আল্ট্রাসনোগ্রাম করার লোক নাই, পরদিন সকালে আসবেন। পরদিন সকালে জানানো হলো মেশিন নষ্ট, বাইরে থেকে করাতে হবে। চিন্তা করে দেখেন অবস্থা। রোগীর এবং রোগীর সাথে আসা লোক তারা কি পরিমান উৎকন্ঠায় ছিলেন। পরদিন শাহবাগ থেকে ধানমন্ডি নিয়ে যেতে হয়েছিলো সেই আল্ট্রাসনো করার জন্য। 

শেষ পর্যন্ত রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানালেন বাচ্চা তখন পর্যন্ত ঠিক ছিলো। কিন্তু এভাবে বাচ্চা আর রাখা যাবে না, সিজার করতে হবে। প্রস্তুতি নেয়ার আগেই বাচ্চা নরমাল ডেলিভারী হয়। বাচ্চাটি জীবিতই ছিলো। এরপর আরেক কাহিনী। অপরিনত বাচ্চাদের জন্য যে ব্যবস্থা আছে সেখানে কোন সিট পাওয়া গেলো না। কি আর করা, শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘন্টা পর বাচ্চাটি মারাই গেলো। এই অপরিনত বাচ্চা বাঁচবে সেটি কেউ ই আশা করে নাই। কিন্তু এভাবে চলে যেতে হবে সেটাও কেউ ভাবে নাই। অথচ তার জন্ম হয়েছিলো বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে। রোগী এবং তার সাথের লোকজন ডাক্তারের ব্যাপারে বলেছেন তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আনুষঙ্গিক সেবা না পাওয়ার কারণেই এই কাহিনী হলো। 

যতদিন যাচ্ছে চিকিৎসা সেবার ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু সেবার মান কমছে। বিত্তশালীরা যায় সিঙ্গাপুর / ব্যাংকক, একটু উচ্চ মধ্যবিত্তরা যায় ভারত আর সাধারণ মধ্যবিত্তরা বেসরকারী হাসপাতাল আর বাকিরা সরকারী হাসপাতাল। এই অবস্থার পরিবর্তন যে হবে কে জানে।

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।