পাড়াতো ডাক্তার

আগে প্রতিটি পাড়াতেই এক বা একাধিক ফার্মেসীতে ডাক্তার বসতেন। তারা খূব বড় ডিগ্রিধারী ডাক্তার ছিলেন না। এমবিবিএস ডাক্তার। বাসার কারো অসূখ হলে প্রথম পছন্দ ছিলেন তারাই। প্রয়োজনে হাউজ কলে বাসায় এসেও দেখে যেতেন। বড় কিছু হলে তারাই রেফার করতেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে। তখন হয়তো হাসপাতালে যেতে হতো।
 
আমির মনে আছে ছোট-খাট কাঁটা-ছেড়ায় পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের কম্পাউন্ডার আঙ্কেল বাসায় আসতেন। ক্লাস ফোরে পড়ার সময় মুসলমানি করার পর তিনিই নিয়মিত ড্রেসিং করে দিতেন।  আর একজন ছিলেন ডাঃ ওমর, পূরো নাম মনে নাই। তাঁর চেম্বার ছিলো তেজগাঁও উচ্চ্ বালক বিদ্যালয়ের পাশের গলিতে এক টিনের ঘরে। সামনের ঘরে রোগীরা এসে বসতেন, ভিতরের ঘরে ডাক্তার। তার ভিজিট তখন কত ছিলো মনে নাই, তবে তিনি বিনা পয়সাতেও অনেকের চিকিৎসা করতেন। বোনের কাছে শোনা, এক দরিদ্র রোগীর কাছ থেকে তিনি টাকা তো নেন ই নাই, ঔষধের ফ্রি স্যাম্পল দিয়েছিলেন। পরে আবার এসিট্যান্টকে টাকা দিয়ে সেই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করতে পাঠিয়েছিলেন। তিনিই ছিলেন আমাদের হাউজ ফিজিশিয়ান।
 
অবস্থা বদলেছে। আস্তে ধীরে ফার্মেসীতে বসা ডাক্তাররা সব কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন। এখন বড় / ছোট যে কোন প্রয়োজনে ডাক্তার দেখাতে যেতে হয় কোন হাসপাতালের আউটডোরে কিংবা কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে। রোগী বৃদ্ধ / চলতে ফিরতে অসমর্থ হলে তার কাছে যাওয়ার মতো কোন ডাক্তার আজ আর পাওয়া যায় না। আব্বা-আম্মাকে তাই এখন আর সরাসরি কোন ডাক্তার দেখানোর উপায় নাই। যেসব ডাক্তার আব্বা-আম্মাকে চিকিৎসা দেন তারাও অনেকটা নিরুপায় হয়েই আমাদের মুখের কথা আর কিছু টেষ্ট রেজাল্টের উপর নির্ভর করেই প্রেসক্রিপশন লিখেন।
 
কয়েকদিন ধরে সেজ কাক্কির অবস্থা ভাল যাচ্ছে না। মুখে কিছু খেতে পারছেন না। সরকারী হাসপাতালে বেড নাই। বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে দিনের পর দিন চিকিৎসা নেয়ার মতো সামর্থ্য ও নাই। চাচাতো ভাই কোন এক ডাক্তারকে বহু কষ্টে ম্যানেজ করে বাসায় নিয়ে দেখিয়েছে। স্যালাইন চলতেছে। অবস্থা এখনও ভাল না। ‘দেখি না কি হয়’ ভাবা ছাড়া আর কিছু করারও নাই।
 
[আপডেট : সেজ কাক্কি ১৬ই মার্চ দুপুর ১:৩০ এর দিকে মারা গেছেন]

রিফাত জামিল ইউসুফজাই

জাতিতে বাঙ্গালী, তবে পূর্ব পূরুষরা নাকি এসেছিলো আফগানিস্তান থেকে - পাঠান ওসমান খানের নেতৃত্বে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। লড়াই এ ওসমান খান নিহত এবং তার বাহিনী পরাজিত ও পর্যূদস্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে টাঙ্গাইলের ২২ গ্রামে। একসময় কালিহাতি উপজেলার চারাণ গ্রামে থিতু হয় তাদেরই কোন একজন। এখন আমি থাকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। কোন এককালে শখ ছিলো শর্টওয়েভ রেডিও শোনা। প্রথম বিদেশ ভ্রমণে একমাত্র কাজ ছিলো একটি ডিজিটাল রেডিও কেনা। ১৯৯০ সালে ষ্টকহোমে কেনা সেই ফিলিপস ডি ২৯৩৫ রেডিও এখনও আছে। দিন-রাত রেডিও শুনে রিসেপশন রিপোর্ট পাঠানো আর QSL কার্ড সংগ্রহ করা - নেশার মতো ছিলো সেসময়। আস্তে আস্তে সেই শখ থিতু হয়ে আসে। জায়গা নেয় ছবি তোলা। এখনও শিখছি এবং তুলছি নানা রকম ছবি। কয়েক মাস ধরে শখ হয়েছে ক্র্যাফটিং এর। মূলত গয়না এবং নানা রকম কার্ড তৈরী, সাথে এক-আধটু স্ক্র্যাপবুকিং। সাথে মাঝে মধ্যে ব্লগ লেখা আর জাবর কাটা। এই নিয়েই চলছে জীবন বেশ।